ভেজালের হাত থেকে খাদ্যসামগ্রীও যে রেহাই পায়নি, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সামনে এল বাংলাদেশের খুলনার এক ঘটনায়। পাইকগাছা উপজেলায় কয়েকজন যুবক মিলে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। গোমাংস রান্না হচ্ছিল। রান্না হওয়ার পরই দেখা যায়, লাল ঝোলের মধ্যে গরুর মাংসের টুকরোগুলি সবুজ হয়ে যাচ্ছে! এতে বিস্ময়ের পাশাপাশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই যুবকরা। কাঁচা ও রান্না করা মাংস কড়াই নিয়েই থানায় ছোটেন তাঁরা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কানে খবরটি পৌঁছনোমাত্র ওই মাংসের নমুনা সংগ্রহের তোড়জোড় করা হয়। তবে এসব নমুনা ঠিক কোন পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি) পাঠানো হবে এবং কী কী বিষয়
পরীক্ষা করা হবে, সে বিষয়ে আগামী রবিবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাইকগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট) উদয় কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে মাংস ফেলে দেওয়ার আগেই তিনি রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতার দোকানের ফ্রিজ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার কাঁচা ও রান্না করা দুই ধরনের নমুনাই খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কড়াইয়ের মাংসে শুধু টুকরোগুলোর রং পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ঝোলের রং স্বাভাবিক ছিল। তাই ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এদিকে মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে দেখানোর পর তারা ওই মাংস ফেলে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য আধিকারিক মোকলেছুর রহমান জানান, সংগৃহীত নমুনাগুলো বর্তমানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে কোনও পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে কী কারণে এমনটি হতে পারে, সেই সম্ভাব্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করা জরুরি। এর জন্য রবিবার প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ল্যাব ও পরীক্ষার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আধিকারি জানান, সাধারণত মাংস পচে গেলে এই ধরনের সবুজ রং ধারণ করার কথা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার সময় ব্যবহৃত কোনও উপাদান, পাতিল বা অন্য কোনও বাহ্যিক উপাদানের সঙ্গে মাংসের প্রোটিনের বিক্রিয়া ঘটে এমন রঙের সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, কড়াইয়ের মাংসে শুধু টুকরোগুলোর রং পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ঝোলের রং স্বাভাবিক ছিল। তাই ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এদিকে মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে দেখানোর পর তারা ওই মাংস ফেলে দিয়েছেন। তবে কৌতূহলী কয়েকজন দেখতে চাওয়ায় তাঁদের সামান্য কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল। এখন পরীক্ষার ফলাফলে কী আসে, সেটির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
গত বুধবার সকালে পাইকগাছা বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে পিকনিকের জন্য চার কেজি গরুর মাংস কেনেন মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। মাংসটি আগের দিন জবাই করা গরুর ছিল বলে জানা যায়। কর্মচারীদের দাবি, রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পর মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তারা রান্না করা মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতার কাছে এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় ও থানায় যান। অদ্ভূত এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
