আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) দেশে পা রাখামাত্র গ্রেপ্তার করে ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে। এমনটাই বলছে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যাচ্ছেন আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বর্তমানে ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার একাধিক দেশ সফর করলেও গোর কখনও বাংলাদেশে যাননি। আচমকা এই মাসের শেষেই তাঁর ঢাকা যাওয়ার কথা। হাসিনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই গোরের বাংলাদেশ সফরের কথা জানা গিয়েছে। এটা কি নিছকই সমাপতন, নাকি নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কারণ, শুরু জল্পনা।
বছর দুয়েক আগে পতন ঘটে হাসিনা সরকারের। দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। মনে করা হয়, এই ঘটনায় আমেরিকার 'হাত' ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি যা তাতে হয়তো এখন হাসিনা ও আওয়ামি লিগকে সঙ্গে নিয়েই চলতে চাইতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খোদ হাসিনাও সম্প্রতি অনলাইনে এক দলীয় সভাতেও এই দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দূতের সফরে হাসিনার 'ভাগ্য নির্ধারণ' সম্পর্কিত বিষয়েই আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। আর দেশটিতে বসেই জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজা পান ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। এর মধ্যেই বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম কথায়, ‘‘বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মাটি, যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক না কেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে।”
