shono
Advertisement
Bangladesh

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, নিহত আরসা সদস্য

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পূর্বশত্রুতার জেরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরএসওর সদস্যরা এই হত্যা কাণ্ড চালিয়েছে, জানিয়েছে পুলিশ।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:21 PM Jul 30, 2026Updated: 02:28 PM Jul 30, 2026

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে গুলিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক সদস্য নিহত। তিনি ৩৪ বছরের মহম্মদ জুবায়ের। বুধবার গভীর রাতে বালুখালী আশ্রয়শিবিরে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত জুবায়ের ওই আশ্রয়শিবিরের এইচ-২৯ ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) জড়িত বলে পুলিশের দাবি।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ভোরে জুবায়ের বাড়ি থেকে হেঁটে মসজিদে যাচ্ছিলেন। পথে আরএসওর অস্ত্রধারীরা জুবায়েরকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত দুই বছরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমান্ডার-সহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পূর্বশত্রুতার জেরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরএসওর সদস্যরা এই হত্যা কাণ্ড চালিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ, মাদক চোরাচালান ও খুনের বদল খুনের ঘটনায় আরসার সঙ্গে আরএসওর বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই আশ্রয়শিবির অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গার বসতি। দিনের বেলায় রোহিঙ্গা অস্ত্রধারীরা পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর কাঁটাতারের বেড়া কেটে তৈরি করা গোপন পথে আশ্রয় শিবিরে ঢোকে। গত দুই বছরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমান্ডার-সহ অন্তত ২৩ জন
নিহত হয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্বদেশে ফেরত নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে মায়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মায়ানমার।

বুধবার দেশটির চেন্নাহ এলাকার স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই অগ্রগতি মায়ানমারের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

আনোয়ার ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়া মালয়েশিয়া কোনওভাবেই মেনে নেবে না। তিনি জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বলত, কিন্তু কোথায় পাঠাব! আগে মায়ানমার তাদের ফেরত নিতে চাইত না। তাই আমাদের তাদেরকে নির্ধারিত স্থানে রাখতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গাদের বলেছি, মালয়েশিয়ানদের ব্যবসায় বাঁধা দেবেন না। যান চলাচল বা মানুষের বসবাসের এলাকায় বিঘ্ন ঘটাবেন না। এসব করলে এখানকার মানুষ ক্ষুব্ধ হবে।’

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধিত দুই লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছে। তাদের মধ্যে মায়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে; যা বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দেশটিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement