প্রচার পর্বে জনতাকে জন্নতপ্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়েছিল কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত-ই-ইসলামি। আর ভোটের দিন খোলাখুলি ঘুষের প্রস্তাব দিলেন জামাত প্রধান শফিকুর রহমান! বৃহস্পতিবার ভোট চলাকালীন প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা গেল। তাতে স্পষ্ট ঘোষণা, পরিবারের সবাই জামাতকে ভোট দিলে ভোটের খরচ বাবদ মিলবে কড়কড়ে ১৫ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে আজীবনের মতো পাপমুক্ত হয়ে জন্নতপ্রাপ্তি হবে। ভোটের দিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়া খোদ জামাত প্রধানের এহেন ঘোষণায় স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের মসনদে বসতে ইসলামপন্থী দল এতটাই মরিয়া যে খোলাখুলি ঘুষ দিতেও পিছপা হচ্ছে না।
এর আগে জানুয়ারি মাসে বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের মাঝে ঠিক একইরকম অভিযোগ উঠেছিল। বিএনপি অভিযোগ করে, 'জামাতকে ভোট দিলে বেহেশত (জন্নত) পাওয়া যাবে’ - এই মর্মে ভোটের প্রচার চালাচ্ছিলেন জামাতের নেতারা। তা নিয়েই ধুন্ধুমার হয়ে উঠেছিল ভোলা এলাকা। সেই অভিযোগ যে নেহাৎ মিথ্যে নয়, তা বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশের ভোটের দিন আরও স্পষ্ট হল।
বৃহস্পতিবার ভোট চলাকালীন প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা গেল। তাতে স্পষ্ট ঘোষণা, পরিবারের সবাই জামাতকে ভোট দিলে ভোটের খরচ বাবদ মিলবে কড়কড়ে ১৫ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে আজীবনের মতো পাপমুক্ত হয়ে জন্নতপ্রাপ্তি হবে।
দেখা গেল জামাতের 'আমির' তথা প্রধান শফিকুর রহমানের হাতে একটি লিফলেট। তাতে লেখা, "আসসালাম আলাইকুম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের জয় নিয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকুন। ঢাকা-১৫ আসন থেকে অবশ্যই আমির-ই-জামাত শফিকুর রহমান জিতবেনই। ভোটারদের যাতায়াত, খাওয়াদাওয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে ভোটারদের প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা জামাতকেই ভোট দিয়েছেন।''
জামাতের ওই লিফলেটে আরও লেখা, ''আপনি ও আপনার পরিবারকে অবশ্যই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। তাতে আপনি আজীবন পাপমুক্ত ও পবিত্র থাকতে পারবেন। কোনও কঠোর শাস্তি হবে না। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই মোবাইল ক্যামেরা চালু রাখুন এবং দাঁড়িপাল্লা ব্যালটে ভোট দেওয়ার ছবি তুলে রাখুন প্রমাণ হিসেবে।'' অথচ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ক্যামেরা নিষিদ্ধ। এদিনের ভোটে জামাত যে কোনও নিয়মই মানছে না, এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ছাত্রদের দল এনসিপিকে সঙ্গে নিয়ে জামাত ১২ দলের জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে লড়াই করছে এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-কে হারিয়ে বাংলাদেশের মসনদে বসতে মরিয়া।
