কথায় আছে, আনলাকি ১৩! একটা সময়ে ১৩ তারিখটাকেই খারাপ বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল পশ্চিমের সংস্কৃতিতে। যা পরবর্তীতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এখন দেখা যায়, এই দিনটিতে শুভ কাজ করেন না কেউ। এই দিনে সন্তানের জন্ম হোক, তা-ও চান না অনেকেই। আর এই ১৩ তারিখ যদি শুক্রবার হয়, তাহলে তো কথাই নেই! এই দিনটিকে চরম অশুভ বলে মনে করা হয়। 'Friday The 13th', শব্দটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। আগামিকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি পড়েছে শুক্রবার। অনেকের মনেই শঙ্কা, ভয়ংকর কিছু ঘটবে কাল! কিন্তু সত্যিই কি ১৩ তারিখ শুক্রবার পড়লে তা ধ্বংস ডেকে আনে?
জ্যোতিষশাস্ত্র কিন্তু বলছে অন্য কথা। বিখ্যাত জোতিষ সিদ্ধার্থ এস কুমারের কথায়, "বছরের পর বছর ধরে বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ১৩ তারিখ শুক্রবারের সঙ্গে অন্যান্য শুক্রবারের দুর্ঘটনা, হাসপাতালে ভর্তি পরিমানের কোনও পার্থক্য সে অর্থে নেই। এইদিনটিকে অশুভ মনে করার মতো কোনও কারণ পাওয়া যায়নি।" তাঁর কথায়, এটি আসলে যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি ধারণা। যা সকলের মনে বাসা বেঁধে ফেলেছে।
বিখ্যাত জোতিষ সিদ্ধার্থ এস কুমারের কথায়, গবেষণায় এইদিনটিকে অশুভ মনে করার মতো কোনও কারণ পাওয়া যায়নি।
ফাইল ছবি।
কিন্তু এই ধারণার জন্ম কীভাবে? এর শুরু সম্ভবত ১৮০০ সালের শেষের দিকে। এর সঙ্গে নাইটস টেম্পলারদের গ্রেপ্তার এবং যিশুখ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগের রাতে তাঁর বারোজন শিষ্যের সঙ্গে শেষ রাতের খাবারের সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়। যুগ যুগ ধরে এই ভয়কে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন সকলে। গ্রিসের ভাষায় এই ভয়কে 'ফ্রিগাট্রিস্কাইডেকাফোবিয়া' ও 'প্যারাস্কেভিডেক্যাট্রিয়াফোবিয়া' বলা হয়। মনে করা হয়, এই দিনে বাড়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা। তাই আজও ১৩ তারিখ শুক্রবার পড়লে সকলে একটু বেশিই সতর্ক থাকেন।
তবে কোনও কোনও সংস্কৃতিতে কিন্তু এই ১৩ তারিখকে শুভ বলে মনে করা হয়। এই ১৩ তারিখে কিন্তু বিশ্বে প্রচুর ইতিবাচক ঘটনা ঘটে। বহু সফল ব্যক্তিদের জন্মদিন এই তারিখেই। যা প্রমাণ করে যে এই তারিখটি কেমন ধ্বংসই ডেকে আনে না।
