সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি জিতলেও পদ্মাপাড়ের দুশ্চিন্তা কাটবে না। এমনটাই মনে করেন বিতাড়িত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নির্বাচন চলছে, তার মধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "যদি বিএনপি জয়ীও হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার প্রধান বিরোধী দল হবে জামাত ইসলামি।" বাংলাদেশের জনগণের জন্য এর ফল ভালো হবে না বলেই মনে করছেন 'লজ্জা'র লেখিকা। ঠিক কী বলেছেন তিনি?
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা (Taslima Nasrin) লিখেছেন, "যদি বিএনপি জয়ীও হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার প্রধান বিরোধী দল হবে জামাত। এমনটা ঘটবে কারণ আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।" নির্বাচনে জিতে যারা সরকার গড়বেন, তাদের প্রতি তসলিমার বার্তা, "আশা করি নির্বাচিত সরকার আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, যাতে করে বিরোধী দল ধর্মনিরপেক্ষ বা বামপন্থী দল থেকে আসে, কোনও ধর্মীয় দল থেকে নয়।"
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে 'দ্বিখণ্ডিত'র স্রষ্টা বলেছেন, "আমি পরিবারবাদ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধিতা করি। একটি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দল গড়া উচিত নয়। যদি নীতিগতভাবে কোনও দলকে নিষিদ্ধ করতেই হয়, জামাতকে করা যেতে পারে, কোনও ধর্মনিরপেক্ষ দলকে নয়।" যোগ করেন, "বাংলাদেশের নতুন ধর্মনিরপেক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজন, যারা নারীর অধিকার, মানবাধিকার, সার্বজনীন শিক্ষা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং বাকস্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেবে। কোনও রাজবংশ বা ধর্মগুরুকে নয়।"
প্রসঙ্গত, প্রশ্ন রেখেই আজ ভোট পদ্মাপারে। আওয়ামি লিগ বিহীন বাংলাদেশে তীব্র উত্তেজনা। সন্দেহ, আতঙ্ক নিয়েই বুথমুখী ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ কার্যকরী করতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭.৩০টা থেকে। ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। জামাত না বিএনপি, পাল্লা ভারী কার? ইরান-আফগানিস্তানের মতোই কি বাংলাদেশও শেষমেশ পরিণত হবে ধর্মতান্ত্রিক দেশে? কী হবে ভারত, পাকিস্তান, চিনের প্রতিক্রিয়া?
