shono
Advertisement
Bangladesh

ভারতীয় পণ্যে রাজনীতির খুদ! দিল্লির পাঠানো সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে ঢাকা

গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় ভারতের পাঠানো চাল। সেই চালের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 07:38 PM Aug 04, 2026Updated: 07:39 PM Aug 04, 2026

ঢাকা-দিল্লি চুক্তির ভিত্তিতে ১১ হাজার ৫০০ টন চাল পাঠিয়েছিল ভারত। যদিও সেই চাল গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। এই ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য মহলের একাংশ মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চাল আমদানি প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় ভারতের পাঠানো চাল। সেই চালের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যদিও ২২ জুলাই আমদানিকৃত চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলেই জানানো হয়েছে। চাল খাওয়ার উপযোগী, এই রিপোর্ট আসার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। ওই চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল ঢাকার জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়েছিল। এত কিছুর পর গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের আধিকারীকরা জানান, ‘চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে।

আমদানিকৃত চালের একাংশ খালাস করার পর, ইতিবাচক রিপোর্ট আসার পর হঠাৎ কী সমস্যা হল? প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।’ আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে ১১ হাজার টনের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ‘পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে’ বলেই খবর।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া ব্যবসা করত। তাঁর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে পুরনো সংস্থার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারই শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।

প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement