shono
Advertisement
Suvendu Adhikary

যে কোনও বিপর্যয়ে কুইক রেসপন্স, মহালয়াতেই ৫৫২ থানার জন্য বিশেষ উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের পুলিশকে আড়ে-বহড়ে শক্তিশালী করতে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Published By: Arpita MondalPosted: 08:16 PM Aug 27, 2026Updated: 11:54 PM Aug 27, 2026

যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের পরিস্থিতি। তড়িঘড়ি পৌঁছে যাবে পুলিশ বাহিনী। রাজ্যের পুলিশকে আড়ে-বহড়ে শক্তিশালী করতে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার লালবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে পুলিশমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে যে কোনও বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কুইক রেসপন্স করার ক্ষেত্রে লোকবল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রতি থানায় কুই রেসপন্স ভেহিকেল। এবার পুজোর আগেই থানা প্রতি একটি করে ১১২ গাড়ি দেওয়া হবে জানান শুভেন্দু অধিকারী। মহালয়া অর্থাৎ দেবীপক্ষের সূচনাতেই ব্রিগেডে পুলিশমন্ত্রীর হাত ধরেই যার সূচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

শুভেন্দু অধিকারী জানান, “সিভিল ডিফেন্সে ২০০ জনের নতুন ব্রিগেড বানাচ্ছি। নাম দিয়েছি অর্জুন।” পুজোর আগেই যে বাহিনী আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “অগ্নিবীরদেরও নেওয়া হবে এই টিমে।”

নিজেদের জীবন-বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো মনোবল যাঁদের আছে, সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে 'জীবন রক্ষক' পুরস্কার ঘোষণা করেন পুলিশমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, "রাজ্য পুলিশে ৪৩ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। বহু থানা সিভিক পুলিশ-নির্ভর। পরিকাঠামো, লজিস্টিক্স এবং গাড়ির এমন খারাপ অবস্থা আর কোথাও নেই।" লালবাজারে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান থেকেই শুভেন্দুর জানান, এবার সব থানার আধুনিকীকরণ হবে, মহিলা হেল্পডেস্ক আরও উন্নত হবে, সাইবারে বিভাগে নজরদারি বাড়ানো হবে। তাঁর কথায়, "জনতার দরবারে প্রচুর সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ আসে। জমানো পুঁজি খুইয়ে পথে বসতে হচ্ছে মানুষকে।" তিনি জানান, "সিভিল ডিফেন্সে ২০০ জনের নতুন ব্রিগেড বানাচ্ছি। নাম দিয়েছি অর্জুন।" পুজোর আগেই যে বাহিনী আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, "অগ্নিবীরদেরও নেওয়া হবে এই টিমে।"

শুভেন্দুর কথায়, "বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪ টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২ টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২ টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।"

লালবাজারের অনুষ্ঠানে পুলিশ আধিকারিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন পুলিশমন্ত্রীর। প্রতিদিন ছবি।

আমফানের মতো বিপর্যয় মোকাবিলায় আগের সরকারের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।" এবার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশবাহিনীকে ঢেলে সাজাতে শুভেন্দু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পাশাপাশি এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন। শুভেন্দুর কথায়, "বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪ টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২ টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২ টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।"

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, "রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।"

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা প্রায় নেই বললেই চলে, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন শাখার ক্ষেত্রে বাড়তি নজর দেওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। নিচুস্তরের পুলিশকর্মীদের আর্থিক সহায়তার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, অক্টোবরে রেশনে ২০০০ টাকা এবং ২০ শতাংশ ডিএ সহ অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে পুজোর মাসে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, "রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।" সর্বোপরি, শুধু ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নয়, বরং ময়দানে নেমে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভোলবদলে ফেলতে চায় বর্তমান সরকারের পুলিশমন্ত্রী, তা বলাই বাহুল্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement