শুরু থেকেই শক্ত হাতে বাংলাদেশের হাল ধরতে চাইছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। আগামী ৬ মাসের কাজের অগ্রগতির মূল্যায়ন করবেন তিনি। সেখানে কোনও গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক। বুধবার এমন নির্দেশ দেওয়ার পর আজ, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেদেশের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নাজমুল হাসান এবং বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে পাঁচজন মন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও ১০ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান সবাইকে সততার সঙ্গে কাজ করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কোনও ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না বলেও সতর্ক করেন। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রককে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা এক করে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হবে। এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিএনপির নির্বাচনী ইস্তেহারকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশও দেন তারেক রহমান।
এদিকে এদিনই তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং অন্য বাহিনি প্রধানরা। মনে করা হচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাও মাথায় রেখেছেন তারেক। দেশব্যাপী বিদ্রোহের সময় কিন্তু হাসিনার পাশে থাকেননি ওয়াকার। এহেন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েই তাই সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে কি মনে করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী? তেমনটাই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
