Advertisement

ATM কার্ড ক্লোন করে ৪০ দেশে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, ঢাকায় ধৃত ভারত থেকে পলাতক প্রতারক

03:21 PM Jan 20, 2022 |

সুকুমার সরকার, ঢাকা: সে তুরস্কের নাগরিক-আন্তর্জাতিক জালিয়াত। পেশা অপরের এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। প্রায় ৪০টি দেশে কুখ্যাত হাকান জানবুরকানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই আন্তর্জাতিক অপরাধী হাকান ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সূত্রের খবর, হাকান ও তার সহযোগী বাংলাদেশের মফিউল ইসলাম দুজনই ভারতীয় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়েছিল। সীমান্ত পেরিয়ে দেশবদল করেও লাভ হল না। আপাতত বাংলাদেশের শ্রীঘরে রয়েছে দুজনই। এদিকে মফিউলের ভাইও একই অপরাধে এদেশে জেলবন্দি।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, সৌদি আরব ও স্পেনে প্রতারণার জাল ফেঁদে হাকান ফের বাংলাদেশে এসেছিল একই টার্গেট নিয়ে। মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার অভিজাত তথা কূটনৈতিক পল্লি গুলশান-১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার  হয় তার সহযোগী মফিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকও। তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল, ১টি ল্যাপটপ, ১৫টি ক্লোন কার্ড-সহ মোট ১৭টি কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

[আরও পড়ুন: ওষুধের দোকান থেকে এবার আপনিও কিনতে পারবেন করোনার জোড়া ভ্যাকসিন! মিলল প্রাথমিক ছাড়পত্র]

বুধবার সংবাদ সম্মেলন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আসাদুজ্জামান। সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান জানান, “হাকান আন্তর্জাতিক এটিএম কার্ড ক্লোনিং স্ক্যামিং চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। গত ২ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড,আমেরিকা, ভারত, তুরস্ক, সৌদি আরব, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ভিয়েতনাম, ব্রিটেন, কানাডা, বলিভিয়া, স্পেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে-সহ প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের এটিএম কার্ড ক্লোন করে স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে কয়েকশো বার টাকা তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। কারণ ইস্টার্ন ব্যাংক অ্যান্টি ফেমিং টেকনোলজি ব্যবহার করায় অ্যালার্ম সিস্টেমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে।” হাকান একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানান সিটিটিসির প্রধান।

Advertising
Advertising

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০১৯ সালে অসমের পল্টনবাজার পুলিশ স্টেশনের এটিএম স্ক্যামিং মামলায় হাকান, অন্য আরেক তুরস্কের নাগরিক এবং ২ বাংলাদেশি-সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। ওই কাণ্ডে বিভিন্ন এটিএম থেকে কার্ড ক্লোনিং করে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। প্রায় ২০ মাস জেলে থাকার পর আগরতলা পুলিশের হেফাজত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় হাকান।

পরে এক ভারতীয় নাগরিকের সাহায্যে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সিকিম হয়ে নেপালে পৌঁছয়। সেখান থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নিজ দেশে ফিরে যায়। এর আগেও সে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে গিয়েছে। এবার ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছয় হাকান। এই চক্রে তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো, ভারত, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক জড়িত আছে বলেও পুলিশের আধিকারিক জানান।

[আরও পড়ুন: জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য, কোভিড আক্রান্ত মহিলাকে নয়া জীবনদান বর্ধমান মেডিক্যালের়]

Advertisement
Next