তেজপাতার কাজ কী? মাংস অথবা পোলাওয়ের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া! এক-দুটো সাধারণ শুকনো পাতাতেই যে রান্নার সুঘ্রাণ কতগুণ বাড়িয়ে দেওয়া যায়, তা রসনাপ্রেমীরা বিলক্ষণ জানেন। কিন্তু ঘুম না হলে কি সাহায্য করতে পারবে তেজপাতা?
সাম্প্রতিককালে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক ট্রেন্ড, যেখানে বলা হয়, বালিশের নিচে তেজপাতা রাখলে (Bay leaf under pillow) নাকি শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারবেন গৃহস্থ! কেন? কারণ প্রচলিত বিশ্বাস মতে, ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে অশুভ শক্তিদের হাত! হয়তো ব্যক্তি এমন কোনও জায়গায় গিয়েছেন, যেখানের পরিবেশে অশুভ শক্তি রয়েছে। ব্যক্তিটি যাওয়ামাত্র তা কবজা করেছে তাঁর মন-মস্তিষ্কে। ফলস্বরূপ, ফিরে আসার পর দেখা দিয়েছে অবসাদ, ঘুম না হওয়ার সমস্যা। অনেকেই ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখার বিষয়কেও জুড়ে দেন এর সঙ্গে।
অশুভ শক্তির জেরে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে, ত্রাতা হয়ে আসতে পারে তেজপাতা
মনে করা হয়, এই সমস্ত সমস্যার সমাধান রয়েছে একটিমাত্র তেজপাতায়! প্রতিদিন বালিশের নিচে একটি করে তেজপাতা রাখতে পারলেই সমস্ত বিপত্তির অবসান হয়। এই পাতা আলাদা করে শুকিয়ে যাওয়া বা পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, তাই রোজ রোজ না পালটালেও চলে। সরাসরি বালিশের নিচে তেজপাতা না রাখতে চাইলে, সুতির কাপড়ে মুড়েও রাখা যায়।
এতে নাকি ঘুম গভীর হয়। ইতিবাচক স্বপ্ন আসে ঘুমের মধ্যে। তাছাড়া অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে থাকলে, তা সরে গিয়ে জায়গা করে নেয় শুভ শক্তি। কেবল ভারত নয়, তেজপাতাকে শুভ শক্তির বাহক করে মনে পৃথিবীর বহু দেশের বাসিন্দাই। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতিতে তেজপাতাকে সুরক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখা হত। সোশাল মিডিয়ায় প্রায়শই ইচ্ছেপূরণ বা ‘ম্যানিফেস্টেশন’-এর সঙ্গে জোড়া হয় তেজপাতার প্রসঙ্গ।
তেজপাতাতেই মিলবে মানসিক প্রশান্তি।
কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনও ক্ষমতা রয়েছে তেজপাতার?
বিজ্ঞান অবশ্য তেমন কিছু জানায় না। তবে বহু ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ তা। খেলে, পেটের নানা সমস্যা পেটে। হজমে সুরাহা হয় তো বটেই, নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তশর্করাও। এমনকী কেবল সেবন করলেও পাওয়া যায় লাভ। তেজপাতার গন্ধ মনকে প্রশান্ত করে বলে মনে করা হয়। গরম জলে ফুটিয়ে সেবন করলে, মাথাধরা কমে। সাইনাসের যন্ত্রণারও নিরসন হয়।
অতএব এই যুক্তিতে এ কথা বলাই যায় যে ভালো ঘুমে সহায়তা করে তেজপাতা। তাছাড়া তা বালিশের নিচে রাখলে অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি মিলবে ভেবে নেওয়া যায় যদি, তবে প্ল্যাসিবো এফেক্ট কাজ করে মনের উপর। স্বাভাবিকভাবেই, মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় এতে।
