সুকুমার সরকার, ঢাকা: করোনার মারে ত্রস্ত বাংলাদেশ। দেশজুড়ে চলছে আংশিক লকডাউন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। এহেন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে গরিব মানুষরা। একটুকরো মাথা গোঁজার জায়গা আর অন্ন সংস্থান করতেই কালঘাম ছুটে যাচ্ছে তাদের। এহেন পরিস্থিতিতে এক দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজর গড়লেন এক পুলিশ আধিকারিক।
[আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধৃত বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি! ইঙ্গিত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর]
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার অদূরে লকডাউনে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ মাইনউদ্দিন। রাত ৮টা নাগাদ ভালুকা পুরসভার খানবাড়ি মোড়ে তিনি দেখেন, রাস্তায় বসে এক বৃদ্ধা তাঁর ছেলে, ছেলের বউ ও তাঁদের দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কাঁদছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের কান্নার কারণ জানতে চান ওই পুলিশ আধিকারিক। ভুক্তভোগী ওই মহিলা জানান, বাড়ি ভাড়া দিতে অসমর্থ হওয়ায় তাঁদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে মালিক। তাঁদের থাকার ঘরে তালাও দিয়েছে । বিপদের কথা জানিয়ে ওই বৃদ্ধা বলেন, এত রাতে তাঁরা কোথায় যাবে। লকডাউনের জন্য সব বন্ধ। কোনও কাজ নেই। ওই বৃদ্ধা জানান, তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তার ছেলে ভালুকায় অটোরিকশা চালাতো। বর্তমানে সবই বন্ধ। ঘরে খাবার নাই। কীভাবে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করবেন, তাও বুঝতে পারছেন না। এদিকে, রাস্তার পাশেই বাড়ির মালিক আজিজুল হকের ঘর। তাঁকে ডেকে এনে ওসি জানতে চান, কত টাকা বাড়ি ভাড়া বকেয়া আছে? ওই ব্যক্তি জানান, ২ হাজার টাকা। সঙ্গে সঙ্গে ওসি মাইনউদ্দিন নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে তা পরিশোধ করেন। এর পর বৃদ্ধাকে বাড়িতে ঢুকিয়ে সমস্যার সমাধান করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপে আবির্ভূত নোভেল করোনা ভাইরাসের জেরে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৮২ জন। হাসিনা সরকারের চিন্তা বাড়িয়ে বাংলাদেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। বিপুল চাপ পড়ছে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরও। এপর্যন্ত এই মারণ জীবাণু হানা দিয়েছে একশোরও বেশি চিকিৎসকের শরীরে। এছাড়াও সংক্রমণের আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন আরও ৪০০ জন।
[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা, করোনায় আক্রান্ত ১৭০ জন চিকিৎসক]
The post দোর দিয়েছে বাড়িওয়ালা, অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ আধিকারিক appeared first on Sangbad Pratidin.
