shono
Advertisement
Bangladesh

রুশ সহায়তায় পরমাণু যুগে পা বাংলাদেশের, বিদ্যুৎ স্বনির্ভরতায় চালু নয়া চুল্লি

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১,২০০ মেগাওয়াটের চুল্লি রয়েছে। ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে এটি নির্মাণে। যেখানে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করেছে রাশিয়া।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:32 PM Apr 29, 2026Updated: 06:32 PM Apr 29, 2026

রাশিয়ার সহায়তায় পরমাণু যুগে পা রাখল বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের পাবনা জেলার রূপপুরে চালু হল প্রথম পরমাণু চুল্লি। মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, 'এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।'

Advertisement

দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ স্বনির্ভরতা না থাকায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হত ঢাকাকে। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি উৎস না থাকায় পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকেছিল বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে রাশিয়ার সরকারি মালিকানাধীন পরমাণু সংস্থা রোসাটমকের সঙ্গে চুক্তি হয়। সেইমতো ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম বাংলাদেশে পরমাণু জ্বালানি পাঠায় রাশিয়া। আসল ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরার আগে রিঅ্যাক্টর ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা যাচাই করতে ‘ডামি ফুয়েল’ দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সফলভাবে পরীক্ষা ও মহড়া চালানো হয়। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল এই পারমাণবিক চুল্লি।

কেন্দ্রটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট।

জানা যাচ্ছে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১,২০০ মেগাওয়াটের চুল্লি রয়েছে। ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে এটি নির্মাণে। যেখানে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করেছে রাশিয়া। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। পাশাপাশি এই কেন্দ্রের জেরে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ৩৩ তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAAEA)-এর নির্দেশিকা মেনে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। প্রথমধাপে মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই কেন্দ্রটি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। লক্ষ্য পূরণ হলে, পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পর তৃতীয় দেশ হবে বাংলাদেশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement