shono
Advertisement
Bangladeshi

নাবালিকাকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে খুন, ১৯ দিনের মাথায় দোষী দম্পতিকে ফাঁসির নির্দেশ আদালতের

এই হত্যাকাণ্ডে গত ১৯ মে থেকে উত্তপ্ত ঢাকা।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 07:10 PM Jun 07, 2026Updated: 07:12 PM Jun 07, 2026

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডে মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা। দোষী সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির সাজা দিল আদালত। ১৯ মে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। মামলা দায়েরের ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল হয়। সাক্ষ্যগ্রহণও হয়েছে ঝড়ের গতিতে। রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন দোষীদের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা, স্বপ্নাকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ পাবে নির্যাতিতার উত্তরাধিকাররা। জরিমানার অর্থ না দিলে দোষীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে মৃতার উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

সোহেল রানা

পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল নির্যাতিতা। গত ১৯ মে স্বপ্না সকাল ৯টায় খুদেকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন দোষী স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। সোহেলের ঘরে উদ্ধার হয় নাবালিকার মুন্ডহীন দেহ। পাশে একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় এলাকা। আজ, রবিবার ঢাকা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন মামলা পর্যবেক্ষণে বলেন, "শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। যখন কোনও শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।"

আদালত তরফে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল এক হাজার ৮০০-এর বেশি বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পিছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু হত্যার এ মামলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আরও বলে, এ মামলার দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement