হামের টিকা সরকার ক্ষেত্রের বাইরে নিয়ে গিয়ে বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তর। যার পরিণতি প্রায় হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসে ( Md Yunus) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবারও পাঠানো হল আইনি নোটিস। রবিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে এই নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম।
২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই আর্থিক সুবিধা পেতে ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন।
আইনি নোটিস পাঠানোর বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইনজীবী আশরাফুল বলেন, হামের টিকাকে সরকারি ক্ষেত্রের বাইরে বের করে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই অপচেষ্টা ও অশুভ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন ইউনুস। ফলে এই গর্হীত অপরাধের পর উনি যাতে দেশ ছেড়ে চলে না যান তার জন্য এই আইনি নোটিস পাঠান হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও কয়েকবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি পাঠানো হয়েছিল। ইউনুস-সহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-সহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে সে দাবিতে বিশেষ আমল দেয়নি আদালত।
অভিযোগ, ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই আর্থিক সুবিধা পেতে ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততদিনে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ব্যাপকভাবে শিশুমৃত্যু ঘটতে শুরু করে দিয়েছে। যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের এবং বাকি ৮০৯ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম ও বিশেষ সতর্কতা সত্ত্বেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের ভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার ১০১ জন।
