শেখ হাসিনা সরকার হঠাও আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফসল ঘরে তুলেছিল বিএনপি ও ছাত্রদল এনসিপি। যদিও নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমানের দল। মহম্মদ ইউনুসের আমলে এনসিপির নেতারা ভারতবিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই আগুনে নেভানোর বদলে উসকে দিয়েছিল। তারেক জমানায় সেই 'ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন' নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশে। এমনকী বিএনপির ছাত্রদলের উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি, সারজিস আলমদের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠছে, বিলেতে শিক্ষিত তারেক রহমান কি মৌলবাদী জামাত কিংবা 'ভারতবিদ্বেষী' এনসিপিকে সামলাতে সক্ষম হবেন?
বুধবার রাতে এনসিপি নেতারা শ্রীমঙ্গল জেলায় বিএনপির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাদের কনভয়ে হামলা ও জখম করার অভিযোগে আনেন। এবার পালটা ছাত্রদল হবিগঞ্জ জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম-সহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ ইকবাল হোসেন রুকন লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখ-সহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে ভারতবিদ্বেষী বলে পরিচিত নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি, সারজিস আলম, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজি, মাহবুবুল বারি চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরীকে।
থানায় দায়েক করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও শাসক দলের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এই সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহিদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন-সহ ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এই হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমন-সহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটের টুকরো দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সংঘর্ষের সময় মোজাক্কির হোসেন ইমন, মাহফুজ চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান গাজী, শিমুল হাসানের মোবাইল ফোন-সহ রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ জাহিদুল হক বলেন, এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, কড়া হাতে ব্যবস্থা না নিলে মৌলবাদী জামাত এবং বেপরোয়া এনসিপিকে সামলানো কঠিন হবে। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যা গুরুত্বপূর্ণ।
