ছাত্র-যুব আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যূত হন শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে জামাত-বিএনপি অভিযোগ করে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক হত্যার মতো গর্হিত কাজ করত বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন বাহিনী 'র্যাব' (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন)। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার অনুমোদনে বিলুপ্ত হল আওয়ামি আমলে ওই বাহিনী। বিএনপি জমানায় বাহিনীর নতুন নাম হল ‘স্পেশ্যাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ কায়মে করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসআরবি আইনের খসড়া অনুমোদন হয়। পরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ব়্যাবের বিলুপ্তির করার কথা ঘোষণা করেছিল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনুসের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী প্রস্তাব করেন, 'র্যাবে'র (RAB) নতুন নাম হোক ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ বা এসআইএফ। যদিও সেই দাবিতে মান্যতা দিল না তারেক সরকার। নতুন নাম হল ‘স্পেশ্যাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’। সংক্ষেপে এসআরবি।
বাংলাদেশ সচিবালয় সূত্রে জনা গিয়েছে, অনুমোদিত আইনের খসড়ায় নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ দাবি-দাওয়া নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া 'র্যাবে'র জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাব সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বর্তমান বিধিমালা প্রয়োজনীয় বদল-সহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুই দশক আগে ২০০৪ সালের মার্চে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ইউনিট 'র্যাব' প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে 'র্যাব'। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানা বিদ্রোহ এবং হত্যাকাণ্ডের পরে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) বাহিনীর নাম বদলে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) করা হয়েছিল।
