একদা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। ২৫৫টি ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হল বাংলাদেশে।
পদ্মাপাড়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবারে দুই প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির সমর্থিত ৭৮ বছরের ফখরুল এবং জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ৮৪ বছরের অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ অধিবেশন কক্ষে বেলা ২টো থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটাভুটি চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ভোটদানে বিরত থাকেন ৬ জন। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেবেন ফখরুল।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শাহবুদ্দিনের বিদায় এবং ফখরুলের উত্থানের মধ্য দিয়ে কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২৪ জুলাই হাসিনা-ঘনিষ্ঠ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। কিন্তু একাধিক সূত্রের দাবি, হাসিনার পতনের পর তাঁর উপর ক্রমেই বাড়ছিল রাজনৈতিক চাপ। তা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন। মহম্মদ ইউনুস সরকারের আমলে কীভাবে তাঁর কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন তিনি। সূত্রের দাবি, ইউনুস জমানার পর তারেক আমলেও সেই ধারা বজায় ছিল।
এদিকে, চলতি বছর বড় সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশের মসনদে বসেন তারেক। কিন্তু তারপরও সে দেশের সেনাবাহিনীতে হাসিনাপন্থী একটা অংশ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে এবার তারেকের ফখরুল বসায় সেই সমীকরণটিও বদলাতে শুরু করবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাশ এখন তারেকের হাতে। এর পাশাপাশি বর্তমান বাংলাদেশের বিদেশনীতিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। হাসিনার পতনের পর থেকে চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে সক্ষতা বেড়েছে ঢাকার। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলের উত্থান ওই দুই রাষ্ট্রকেও বিশেষ সুবিধা দেবে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেটিই ছিল বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট। সেবার শাসক দল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামি লিগ-সমর্থিত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। ৩৩০ সদস্যের সংসদে ভোট পড়ে ২৬৪টি। আবদুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। ফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। ওই নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল।
