সময় যতই গড়াচ্ছে, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে অপকর্মের ফিরিস্তি ততই লম্বা হচ্ছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে দেড় বছরের শাসনকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে 'সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই দেড় বছরে শুধু দেশের অর্থনীতি নয়, আইনশৃঙ্খলা, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য - সব ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের জনগণ। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য থেকে উঠে এসেছে, ইউনুস সরকারের আমলে বিদেশে অর্থ পাচারে রেকর্ড দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে! বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ছিল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে।
তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কগুলিতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, ওই দেশের ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে ১ সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কগুলিতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, ওই দেশের ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে ১ সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছরই (২০২৫ সাল) বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে সুইস ব্যাঙ্কগুলোতে। গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে। এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩.২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল। এরপর দুই বছর ধারাবাহিকভাবে আমানত কমে গেলেও ২০২৪ সালে তা আবার বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৫ সালে আরও বড় উল্লম্ফন দেখা গেল। উল্লেখ্য, সুইস ব্যাঙ্কই বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের একমাত্র ঠিকানা নয়। বরং পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়, তার খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ সুইস ব্যাঙ্কে জমা হয়।
বিভিন্ন গবেষণা ও অবৈধ অর্থপ্রবাহের ঘটনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ১০টি দেশ বা অঞ্চলেই বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়। এই ১০ দেশ হচ্ছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মালয়েশিয়া, কেম্যান আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস। অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইস ব্যাঙ্কে যে পরিমাণ অর্থ বৃদ্ধি পায়, তার অন্তত ১০ গুণ অর্থ এসব দেশে পাচার হয়। সেই গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। এক বছরের হিসাবে এটি সর্বোচ্চ। অর্থাৎ ইউনুস সরকারের দেড় বছরে অর্থ পাচারের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথায়, ‘‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)। সুইস ব্যাঙ্কে জমা টাকার ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, ইউনুস আমলে আওয়ামি লিগের গড় বার্ষিক পাচারের চেয়ে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি পাচার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একাধিক ভাষণে বলেছেন, আর অর্থ পাচার হবে না। তিনি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও বলেছেন। পাচারের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এবারের বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুইস ব্যাঙ্কের তথ্য আমাদের সামনে নতুন প্রশ্ন এনেছে।'' এখন প্রশ্ন একটাই, ইউনুস আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কী ব্যবস্থা নেবে বর্তমান সরকার? নাকি এই অর্থ পাচারের বিষয়টি স্রেফ মৌখিক আশ্বাসই সার?
