মহম্মদ ইউনুসের আমলে জামাত ও ছাত্রদের দল এনসিপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যে গণভোট হয়েছিল। তা আদৌ বাতিল করা হয়নি। সামাজিকমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। কেবল আইন মাফিক একটি অধ্যাদেশের সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। সোমবার একথা জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারি মিডিয়া সচিব কেএম নাজমুল হক। মনে করা হচ্ছে জামাতের চাপেই গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করেও পিছু হটল তারেক রহমানের সরকার।
সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেন নাজমুল। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণভোট বাতিল করা হয়নি। বরং এই সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে সংসদ অকার্যকর থাকার সময়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন। সেই অধ্যাদেশের অধীনে দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল। নাজমুল ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের পর সংসদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখন আইন প্রণয়নের দায়িত্বে রয়েছেন। সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগের অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নাজমুল লিখেছেন, "গণভোটের ফলাফল বৈধ রয়েছে এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।" এইসঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ। সরকার তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের পক্ষেও রায় নেওয়া হয়। সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলি সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ব্যাপারে সুপারিশের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন সরকারি দলের সদস্য। কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা গণভোট অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদনের পক্ষে প্রস্তাব করলেও সরকারি দলের সদস্যরা ‘আরও আলোচনা’ চান।
