shono
Advertisement
Bangladesh

সংখ্যালঘু নির্যাতনের 'কলঙ্ক' ঘোচাতে মরিয়া বিএনপি! সাংসদ বললেন, 'ওয়াজের সঙ্গে কীর্তন-বাউল গানও হবে'

সম্প্রতিই বাংলাদেশের সিলেটে বাউল গানের আসরে হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 06:26 PM Mar 27, 2026Updated: 06:26 PM Mar 27, 2026

সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্মান্ধ রাজনৈতিক নেতাদের কুকীর্তির 'কলঙ্ক' ঘোচাতে তৎপর হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে তথা বিএনপির প্রাক্তন নেত্রী-ব্যারিস্টার, বর্তমানে নির্দল সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন, ‘‘গত ১৮ মাস ধরে ড. মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি, কীভাবে একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউল গানের আসরে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইদ-উল-ফিতরের একদিন পরে সিলেটে এরকম বাউল গানের আসরে ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যতদিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকব, ততদিন আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে, কীর্তন যেমন হবে, বাউল গানও হবে।''

Advertisement

রুমিন ফারহানা বলেন, ''আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যতদিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকব, ততদিন আমার এলাকায় ওয়াজ যেমন হবে, কীর্তন যেমন হবে, বাউল গানও হবে।''

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরস উৎসব উদ্বোধনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানার বক্তব্য, ''বাংলাদেশের সৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন-পালন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্বও আমাদের। যাঁরা বাউল গান ও মাজারের সাথে যুক্ত, তাঁরা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ।'' তিনি আরও বলেন, ''বাউল গান যাঁরা করেন, তাঁদের হেনস্তা করে জেলে দেওয়া হয়েছে - আমরা এগুলো দেখেছি। আমি জানি না, আর কোনও রাজনীতিবিদ প্রতিবাদ করেছেন কি না। তবে, আমি সংখ্যা ধরে ধরে প্রতিটা মাজার ভাঙার প্রতিবাদ করেছি।''

বাবার পথ অনুসরণ করেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি ফারহানা। একসময়ের বিএনপির ডাকসাইটে নেত্রী এবার দলের টিকিট না পেয়ে নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েই বাজিমাত করেছেন। দেশের পূর্বের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি-র কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির একমাত্র মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এরপর ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট, ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে একটি গণশুনানি চলাকালীন ফারহানার সমর্থক এবং ন্যাশনাল সিটিজেন'স পার্টির (এনসিপি) সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেখানে উপস্থিত ফারহানা আক্রান্ত হন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, "১৫ বছরে যা ঘটেনি, আজ তাই ঘটল। আমাকে প্রায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যে বিএনপি নেতা ও কর্মীদের জন্য আমি ১৫ বছর ধরে লড়াই করেছি, তারাই আমাকে ধাক্কা দিয়েছে।'' এরপর ফারহানাকে আওয়ামি লিগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে বিএনপি টিকিট দেয়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement