সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে আর দশজন বাংলাদেশির মতো তাঁরাও কলকাতায় গিয়েছিলেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু ভাগ্যের ফের করুণ পরিণতি। নিউ মার্কেটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ঘটে। তাতে মৃত ৯ জনের মধ্যে আট জনই বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী-তিনবছরের সন্তান ও শ্বশুর। অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে মৃত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানো হবে। পরিবার চাইলে মৃতদের দেহ দেশ আনার খরচ সরকার বহন করবে বলেও জনিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন থেকে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জখম ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ মিডিয়াকে এই তথ্য জানান। যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে চারজন কুস্টিয়া ও একজন ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু।
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের আজকের আলো পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুস্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন (২৫), সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং শ্বশুর আকরাম আলি (৬৪) মারা গিয়েছেন। কুস্টিয়া প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজি মাহবুব রহমান বলেন, দেবাশীষ দত্ত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও দেবাশীষ চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার কুস্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুস্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তাঁর শ্বশুর আকরাম আলির বাড়ি থানাপাড়া এলাকায়। পারিবার সূত্র জানা গিয়েছে, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন।
নিউ মার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের আবাসিক হোটেলে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন অনেকে। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বুধবার ভোররাতেই ‘অভিশপ্ত’ হোটেল থেকে একে একে ৮০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি। আরও ৬ জন জখম হয়েছেন। এই খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের আধিকারীকরা ঘটনাস্থলে যান।
তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এসি বিস্ফোরণের জেরে এই পরিণতি হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।
