বাংলাদেশে (Bangladesh) বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল। ভয়াবহ হামলায় গণতান্ত্রিক তারেক রহমান সরকারকে অস্থিতিশীল করাই ছিল উদ্দেশ্য, দাবি গোয়েন্দাদের। যদিও গোয়েন্দা তৎপরতায় আপাতত ভেস্তে গিয়েছে পরিকল্পনা। সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই সূত্রে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে অভিযান।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরাও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী একটি সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এই গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে--- তলে তলে উগ্রবাদী সংগঠনগুলির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার তথ্য। এই গ্রুপটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র ও শাহবাগ চত্বরের মতো ভিড় এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ছক কষছে। এমনকী জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, হামলার জন্য বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার লুটের মতো পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ইসতিয়াককে গ্রেপ্তার করে নাশকতার পরিকল্পনা জানার পর সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি উত্থানের তথ্য এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ওই শব্দকে (জঙ্গি উত্থান) রিকগনাইজ (স্বীকৃতি) করি না।' কেননা আমাদের দেশে এ রকম কোনও তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ (উগ্রপন্থী গোষ্ঠী) থাকে, পৃথিবীর সব দেশেই এ রকম অ্যাকটিভ (সক্রিয়) থাকে, র্যাডিক্যাল কিছু ফোর্স থাকে, ফান্ডামেন্টাল কিছু পলিটিক্যাল পার্টি থাকে, এগুলোতে আমরা ইউজড টু, এগুলো থাকে।’
একই দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে, এটা বলা যাবে না। এটা একটা সেনসিটিভ তথ্য। এ তথ্যটা গোপন থাকবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে—এটা ফ্যাক্ট; বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।’ তিনি বলেন, আওয়ামি লিগের সময় জঙ্গি সমস্যাকে যে স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিল। এটা অতিরঞ্জিত হয়েছিল ওই সরকারের সময়। পরবর্তীতে যে সরকারের সময় ইন্টেরিমের সময় এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছে যে বাংলাদেশে কোনও জঙ্গি নেই, এটাও আরেকটা এক্সট্রিম। এটাও ভুল কথা। উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিটেন্সি-জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে কমব্যাট করতে চাই।’
