মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের একাদশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারে সেদেশের ২৫টি জেলা থেকে কোনও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। এর নেপথ্যে তারেকের 'সাবধানী' মনোভাবই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, 'মুজিব-গড়' হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের মতো আওয়ামি লিগ অধ্যুষিত জেলাগুলি থেকে কেউই ঠাঁই পাননি নয়া মন্ত্রিসভায়। পাশাপাশি একদা যে জামাতকে সঙ্গে নিয়েই সরকার চালাত বিএনপি, এখন সেই দলের অধ্যুষিত অঞ্চল থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেননি তারেক। যেমন কুমিল্লায় বিএনপি এবার ভালো করেছে। এমনটা নানা অঞ্চলেই দেখা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কোনওভাবেই যাতে কোনও অন্তর্ঘাতের আশঙ্কাকেই নাকচ করে দিতে চাইছেন তারেক। তাই তিনি 'সতর্ক'।
দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারে সেদেশের ২৫টি জেলা থেকে কোনও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। এর নেপথ্যে তারেকের 'সাবধানী' মনোভাবই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধী দলের উপনেতা হচ্ছেন কুমিল্লা-১১ (চোদ্দোগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামাতে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মহম্মদ তাহের। বিরোধীদলীয় মুখ্য সচেতক হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেলে চারটে ১৩ মিনিটে তারেক একাদশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। তাঁকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। শপথগ্রহণের পর তারেক রহমান শপথ গ্রহণের দুই নথিতে স্বাক্ষর করেন। তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করার পর শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তাদেরও শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। এদিন বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। যার পরে দিয়ে শেষ হয় এক ক্রান্তিকালীন অধ্যায়ের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন।
