রোহিঙ্গা নিয়ে ঢাকার উপর চাপ ইস্তাম্বুলের, উখিয়ার শিবির ঘুরে গেলেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

03:08 PM Jan 08, 2022 |
Advertisement

সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা (Rohingya) ইস্যুতে ঢাকার উপর চাপ আরও বাড়ছে। এবার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করলেন তুরস্কের (Turkey) খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সায়লু। সঙ্গে আরও ১৯ জন প্রতিনিধি। শনিবার সকালে তুরস্কের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের পরিদর্শন উপলক্ষে উখিয়ার এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাংবাদিকদের প্রবেশে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল বলে খবর। উখিয়া থেকে ঢাকা ফিরে বাংলাদেশের (Bangladesh) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন সায়লু। এদিন রাতেই ইস্তাম্বুল ফিরছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই ঝটিকা সফর ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Advertisement

শনিবার সকালে কক্সবাজার (Cox’z Bazar)বিমানবন্দরে পৌঁছন সায়লু। তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের দুর্যোগ ও ত্রাণ মোকাবিলা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মহম্মদ মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মহঃ হাসানুজ্জামান ও তুরস্ক দূতাবাস বাংলাদেশের আধিকারিকরা। ১০ টা নাগাদ কুতুপালংয়ের ৯ নং রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছন তুরস্কের মন্ত্রী সোলাইমান সায়লু ও তাঁর প্রতিনিধিরা। বেশ কয়েকঘণ্টা এই শিবির ঘুরে দেখেন তিনি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তাঁর প্রতিনিধিরা।

[আরওপড়ুন: ওমিক্রনের দাপট বাড়তেই বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিল অসাধু ব্যবসা, বিমানের ভাড়া বাড়ল চারগুণ

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন সেরে দুপুরে কক্সবাজার থেকে বিমানে সায়লু ফিরেছেন ঢাকায়। সেখানে বিকেলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সূত্রের খবর, শিবিরের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদে পর্যালোচনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উঠে আসে। তবে কি নিজেদের দায় এড়িয়ে ঢাকার উপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও চাপ বাড়াল তুরস্ক?এনিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে নানা মহলে।

Advertising
Advertising

[আরওপড়ুন: বঙ্গোপসাগরে মিলল মিথেন গ্যাসের ভাণ্ডার, সুসংবাদ শোনালেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী]

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ। মায়ানমারের সংখ্যালঘু নির্যাতনের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে বহু রোহিঙ্গা মুসলিম আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও স্থির কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি আন্তর্জাতিক মহল। মায়ানমারে তাঁদের প্রত্যর্পণ নিয়েও কোনও নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেশের উপকূলবর্তী একাধিক অঞ্চলে সুযোগসুবিধা দিয়ে অস্থায়ী শিবির গড়ে দিয়েছে। কিন্তু দিনদিন তাঁদের চাপ বাড়ায় খানিকটা দিশেহারা বাংলাদেশ। এই অবস্থায় তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় কোনও আশার আলো দেখা গেল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

Advertisement
Next