পুকুরের বাঁধানো পাড়ে একটি দেশি কুকুর ছটফট করছে! জলের কিছুটা অংশে ওই প্রাণীটি ডুবে। কিছু সময়ের মধ্যে একটি বিশালাকার কুমির জলের উপরে এসে সেটির কাছে পৌঁছে যায়। কুকুরটি পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। মুহূর্তে কুমিরটি সেটিকে কামড়ে টেনে নিয়ে যায়। অনতিপরে লাল হয়ে যায় পুকুরের জল। সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। তবে এই ঘটনার পিছনে আরও হাড়হিম তথ্য রয়েছে! অভিযোগ, কুকুরটির পা বেঁধে পুকুরের পাড়ে কুমিরের খাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছিল! আর ওই বিভৎস্য দৃশ্য অনেকে পাড়ে দাঁড়িয়েই মোবাইল ফোন বন্দি করেন! প্রতিবেশী দেশের এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে নেটিজেনদের। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।
জানা গিয়েছে, গত ৮ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের বাগেরহাটের হজরত খানজাহানের মাজারের দিঘিতে। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক নারকীয় ঘটনার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। কয়েক মাস আগে হিন্দু যুবককে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল! এবার কি তবে নারকীয় ঘটনার তালিকায় এই ঘটনাও যোগ হল? একটি অবলা জীবকে এভাবে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করা হল? সেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসারিনও।
অভিযোগ, কুকুরটির পা বেঁধে পুকুরের পাড়ে কুমিরের খাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছিল! আর ওই বিভৎস্য দৃশ্য অনেকে পাড়ে দাঁড়িয়েই মোবাইল ফোন বন্দি করেন!
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "বাগেরহাটের খান জাহান আলী মাজারের পুকুরে এই ঘটনা ঘটেছে। একটা কুকুরকে বেঁধে রাখা হয়েছে, অথবা পা ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে যেন নড়তে না পারে, যেন ক্ষুধার্ত কুমীর এসে কুকুরটাকে খেয়ে যায়। পুকুরে কুমীর পুষতে হয় কেন? কুমীরের বাসস্থান তো পুকুর নয়! কুমীরকে কি জ্যান্ত প্রাণী খেতে দেওয়া হয়? নাকি জ্যান্ত কুকুরটির কী দুর্দশা হয়, দেখে লাফিয়ে হাততালি দেওয়ার লোকেরা কুকুরকে বেঁধে রেখেছে বা কুকুরের সবগুলো পা ভেঙ্গে রেখেছে? বার বার কুকুরটি মানুষের দিকে তাকাচ্ছিল যেন তাকে কুমীরের হাত থেকে বাঁচায়। যারা কুকুরটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, যারা কুকুরটিকে সামনে থেকেও বাঁচায়নি, তাদের আমি ধিক্কার জানাই।"
এই ঘটনা জানাজানির পর বাংলাদেশেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি হয়েছে। শরীরে কুমিরের কামড় ছাড়া আর কোনও আঘাত আছে কিনা, ওই কুকুরটির দেহাংশ উদ্ধার করে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানানো করা হয়েছে, ওই কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। কুকুরটিকে মারধর করে বেঁধে কুমিরের খাদ্য করা হয়নি। সেটি নিজেই জলে নেমেছিল। কুমিরটি দ্রুত চলে আসায় সেটি আর উঠতে পারেনি! তবে সমস্ত বিষয়টি প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
