সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি ঘিরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উত্তপ্ত পরস্থিতি অব্যাহত। কোটা বাতিল দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শাসকদলের ছাত্রলিগের মধ্যে সংঘর্ষ জারি রয়েছে। দুপক্ষের হাতাহাতিতে আহত বহু। এর মধ্যে ২৯৭ জনের চিকিৎসা চলছে। বাংলাদেশের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার দুপুর তিনটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রলিগের প্রথমে সংঘর্ষ বাঁধে। এর পর সেই ঝামেলা সারা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক ছাত্রীও রয়েছেন। আহতদের প্রায় সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এদিন গভীররাতে ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, ছাত্রলিগের সদস্যরা দুই দফায় হামলা চালায়। অস্ত্রধারী বহিরাগতদের নিয়ে আসে। পুলিশকেও আক্রমণ করে।
[আরও পড়ুন: প্রাক্তন পিওন ৪০০ কোটির মালিক, নিজেই জানিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ হাসিনার]
আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলিগের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিবৃতি দিয়ে তারা বলে, 'বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব সংবিধানের অধীনে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেসের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে হবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।' ছাত্রলিগের হামলার নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকাও। বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের সকল বিষয় কড়াভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলারে বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক পদ্ধতির পক্ষে কোটা বাতিলের (সংস্কার) দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ যে কোনও গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। তাঁদের এই কর্মসূচিতে সেদিন গোটা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, কোটা বিরোধী ইস্যু নিয়ে সংসদে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গত রবিবার বিক্ষোভ দেখানোর সময় পুলিশের সঙ্গেও ঝামেলা বাধে ছাত্রছাত্রীদের। গাড়িতে ভাঙচুর, হামলা এবং মারধরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ। অভিযুক্ত হিসেবে অজ্ঞাতপরিচয় অনেক শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়।
