Advertisement
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ডানার জীবন! ইউক্রেনে বদলে যাচ্ছে পাখির বাসাও, অস্তিত্ব রক্ষায় কী করছে তারা?
যুদ্ধের আঁচ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেনি নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো পক্ষীকূলও। তাদের শান্তির নীড়েও যেন যুদ্ধের ছায়া।
প্রায় বছর চারেক ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। প্রাণহানিও নতুন নয়। যুদ্ধের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই পড়েছেন মানবজীবনে। ভূ-রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে যুদ্ধ। এই যুদ্ধের আঁচ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেনি নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো পক্ষীকূলও। বলা ভালো, তাদের শান্তির নীড়েও যেন যুদ্ধের ছায়া।
ভাবছেন, গাছের কোঠরে থাকা পাখির বাসা হয়তো ছারখার হয়ে যাচ্ছে, তাই তো? মোটেও না। ওই যুদ্ধবিধ্বস্ত জায়গাতেই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে ওরাও। ব্যাপারটা ঠিক কী? ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার কাছাকাছি থাকা পাখিরা বাসা তৈরি করতে কাজে লাগাচ্ছে হামলাকারী ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহার পরিত্যক্ত ফাইবার অপটিক তার।
আসলে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় সব জায়গাতেই ফাইবার অপটিক তারের ছড়াছড়ি। আর সে কারণে পাখিরা সেগুলিকে বাসা তৈরির মূল উপকরণ হিসাবে বেছে নিয়েছে। ঠিক যেমন অন্যান্য জায়গায় আশেপাশে থাকা গাছের ছোট ডালপালা, দড়ি, সুতো, পাতা দিয়ে নিজেদের শান্তির নীড় গড়ে তোলে তারা। সারা আকাশ চষে বেড়ানোর পর দিনশেষে সেখানেই আসে প্রিয়জনের টানে। ওই বাসা বেড়ে ওঠে তাদের খুদে সদস্য।
কিভের ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক ইয়ানা হ্রিনকো বলেন, "যুদ্ধের ফলে প্রকৃতিও বদলে যাচ্ছে। ফাইবার অপটিক তারের টুকরো দিয়ে পাখির বাসা তৈরি করাই যেন বলে দেয় অনেক না বলা কথা। যুদ্ধের দ্বারা প্রকৃতি যে বদলে গিয়েছে তারই প্রমাণ দেয় এই ঘটনা।"
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাঁধে। ড্রোনই যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। সেই ড্রোনের ফাইবার অপটিক তারই ব্যবহার করছে পাখি। অবশ্য কোন প্রজাতির পাখি এভাবে বাসা তৈরি করছে তা এখনও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি গবেষকরা। তাঁদের মতে, একাধিক পাখির বাসার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলির উপর ভিত্তি করেই গবেষণা চলছে। খুব শীঘ্রই আরও নানা তথ্য সামনে আসবে বলেই আশা তাঁদের।
Published By: Sayani SenPosted: 11:21 PM Jul 01, 2026Updated: 11:21 PM Jul 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
