‘আপনারা ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন, নির্ভয়ে ফিরে আসবেন। আমি মির্জা ফখরুল আলমগির আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের নিরাপত্তায় যদি শহিদ হতে হয়, আমিই হব প্রথম শহিদ। আমার দলের লোকেরাও হবে।’ শনিবার বিকেলে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বলদাপুকুর গ্রামে নির্বাচনী সভায় এই ভাষাতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের আশ্বাসবাণী শোনালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল। শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চিলারং ইউনিয়নে এক নির্বাচনী পথসভায় ভাষণে তিনি বলেন, "আমি আপনাদের এটা বলতে পারি—ভয়ের কোনও কারণ নেই। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান, নির্ভয়ে বেরিয়ে আসুন, নির্ভয়ে বাঁচুন।' যোগ করেন, 'আমি মির্জা আলমগির আপনাদের সঙ্গে আছি। আমি সবসময় আপনাদের জন্য কথা বলেছি, আপনাদের জন্য সংগ্রাম করেছি, আপনাদের সঙ্গে লড়াই করেছি। হাজার হাজার বছর ধরে আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করছি। এখানে কোনও বিভাজন আমরা চাই না।'
বিএনপি নেতার দাবি, বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আজ আমাদের আনন্দের বিষয় হল- হিন্দু ও মুসলমান একইভাবে ভাবছে। আমরা এই দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করে, তাদের কোনও জায়গা দিতে চাই না। বিষয়টি খুবই পরিষ্কার।' তিনি বলেন, 'একটি দল আছে, যারা আমার মুসলমান ভাইদের বিভ্রান্ত করছে। বলছে, অমুককে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে। আমার ইসলামি বিশ্বাসে এ রকম কোনও কথা নেই। যারা সৎকর্ম করে এবং আল্লাহর পথে চলে, তারাই জান্নাত লাভ করবে—এর বাইরে কিছু নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এখানেই না থেমে একাত্তরের আবেগ উসকে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, '১৯৭১ সালে আমরা এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। বহু মানুষকে শহিদ হতে হয়েছে, মা-বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম গিয়েছে। এই দেশের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। সেই সময় এই দলটি (পড়ুন জামাত) পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশকে ওরা মানতে চায় নাই। আপনারা কি ভুলে গেছেন? ভুলবেন না।' এমনকী সরাসরি জামাত শিবিরকে আক্রমণ করে বিএনপি নেতা বলেন, একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটে যত এগিয়ে আসছে তত নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করছে বিএনপি। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বহু বিষয়ে জামাত শিবিরের সঙ্গে একমত ছিল তারেক রহমানের দল। যদিও নির্বচনে এগিয়ে আসতেই মুক্তিযুদ্ধ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে সরব তারা। যদিও প্রশ্ন উঠছে, হিন্দু নির্যাতনের বাংলাদেশে এই আশ্বাসবাণী নির্বাচনী কৌশল মাত্র নয় তো? ভোট ফুরোলেই কট্টরপন্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধবে তারেকের দল?
