সৌরভ মাজি, বর্ধমান: পঞ্চায়েত ভোটের আগে বড় ধাক্কা সিপিএমের। বুধবার, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে দুই তৃণমূলকর্মীকে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ১৮ জন সিপিএম নেতা-কর্মীকে যাবজ্জীবন জেলের সাজা দিল আদালত। মঙ্গলবার ১৮ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল বর্ধমান আদালত। তারপর এদিন অভিযুক্তদের বক্তব্য শোনার পর সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। গতকাল অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন বর্ধমানের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শেখ মহম্মদ রেজা। তিনি মন্তব্য করেন, মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনি জমায়েত, খুন, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার মত ধারায় অভিযুক্তরা দোষী। বিচারক আরও বলেন, খুনের ধারায় (৩০২) ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন সাজার বিধান রয়েছে।
[বেশি বেশি কথা বলুন, পুরনো উপদেশ মনে করিয়ে মোদিকে খোঁচা মনমোহনের]
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর খুনের ঘটনাটি ঘটে। ওইদিন সকাল থেকেই জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় সিপিএম। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করে তারা। মুইদিপুর গ্রামে পচা মার্কেট এলাকায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সকাল ৭ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মারধর করা হয়। লাগাতার হামলায় সাহেব সাঁতরা শ্যামাপদ দে-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী গুরুতর জখম হন। দুপুরে সামান্য বিরতি দিয়ে বিকেল থেকে ফের এলাকা দখলে নামে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী। স্থানীয় সিপিএম নেতা মিলন মালিকের নেতৃত্বে দলের লোকজন তাণ্ডব শুরু করে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি-পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়। রেশালাতপুর গ্রামের দিঘিরপাড়, উজিরপুরের রুদাস পাড়ায় বাড়ি বাড়ি হামলা চালানো হয়। গ্রামের তাঁতিপাড়ায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁচু দাসকে। সেখানে তাঁকে খুন করা হয়। এরপর অমরপুর গ্রামের ঈশা মল্লিককেও সেখানে তুলে আনা হয়। একইভাবে তাঁকেও খুন করা হয়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গিয়ে তীরবিদ্ধ হন সত্য কুণ্ডু। এদিনই রাতে নিহত পাঁচু দাসের ভাইপো প্রবীর দাস জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ করেন জামালপুর থানার তদন্তকারী অফিসার সুজিত ভট্টাচার্য। ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার শেষে এদিন আদালত রায় দেয়। সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল বলেন, “এই ঘটনা ছোট আাঙারিয়ার ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। সিপিএমের লোকজন দেহ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। মুণ্ডেশ্বরী নদীতে দেহ ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। মৃতদেহ সচরাচর বাজেয়াপ্ত করে না পুলিশ। নজিরবিহীনভাবে এই ঘটনায় সিপিএমের লোকজনের কাছ থেকে দেহগুলি বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ।” তৃণমূলের জেলার সাধারণ সম্পাদক তথা জামালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল প্রামাণিক জানিয়েছেন, বাম আমলে কী ধরণের সন্ত্রাস হত এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, “সিপিএম কতটা হিংস্র, নৃশংস ছিল তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই জোড়া খুনের ঘটনা। সিপিএমের মুখে আর সন্ত্রাসের অভিযোগ শোভা পায় না।” সিপিএম অবশ্য এই নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি।
[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর ভারতীয় বংশোদ্ভুত গুপ্তচরের ভূমিকায় হলিউডে হাতেখড়ি রাধিকার]
The post তৃণমূল কর্মীকে খুনে যাবজ্জীবন জেলের সাজা ১৮ সিপিএম সদস্যের appeared first on Sangbad Pratidin.
