খোলামুখ খনিতে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ধস নেমে মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু তিনজনের। আরও বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের কুলটিতে (Kulti)। ওই এলাকায় বিসিসিএলের খোলামুখ কয়লা খনি রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই খনিতেই কয়েকজন যুবক নেমেছিলেন। এদিন সকালে ঘটে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা। খোলামুখ খনির ভিতর ধস নামে। মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হল তিনজনের। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যান স্থানীয়রা।
কিছু সময়ের মধ্যেই বিসিসিএলের কর্মী, নিরাপত্তা রক্ষীরাও সেখানে পৌঁছে যান। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তিনজনের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খনিতে আরও কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল, সেই বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি থানার বড়িরায় বিসিসিএলের খোলামুখ বা ওপেন কাস্ট কয়লাখনিতে অবৈধভাবে কয়লা তোলা হচ্ছিল। সেসময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। হুড়মুড় করে উপর থেকে মাটি ধসে যায়। কমপক্ষে ছ'জন ভিতরে মাটি চাপা পড়ে যায় বলে অনুমান।
পরে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছে। কয়েকজন জখমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। খনির ভিতরে আটকে থাকা লোকজনদের উদ্ধারের জন্য মাটি কাটার মেশিন নামানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই ওই অঞ্চলে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী ও সিআইএসএফ মোতায়েন করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের শতাধিক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। প্রিয়জনদের খোঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। অভিযোগ, এই কয়লাখনিতে আগেও একাধিকবার মাটি ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কেন খোলামুখ খনিতে মানুষদের আনাগোনা বন্ধ করা যাচ্ছে না? কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকছে না? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
