মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনে বিধ্বস্ত। প্রতি বছর গঙ্গা, ভাগীরথীর ভাঙনে কৃষিজমি থেকে বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়! এবার নদী ভাঙন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মুর্শিদাবাদ-মালদহ দুই জেলার ভাঙন রোধে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু তাই নয়, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রুখতেও কড়া ব্যবস্থা, নজরদারির নির্দেশ পুলিশ-প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদে এখনও অবধি মোট ৬৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলার থেকে এই সংখ্যা তুলনায় কম। অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে বিএসএফের সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনকে আরও নিবিড় যোগাযোগের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুর্শিদাবাদ ও মালদহ দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার উপর দিয়ে গঙ্গা, ভাগীরথী, ফুলাহার-সহ একাধিক নদী বয়ে গিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে দুই জেলা নদী ভাঙনে বিধ্বস্ত। গঙ্গা, ভাগীরথীর ভাঙনে মুর্শিদাবাদের বিঘার পর বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। মালদহে গঙ্গা, ফুলাহার নদীতেও প্রবল ভাঙন দেখা যায় প্রতি বছর। বর্ষা শুরুর পর থেকেই নদীপাড় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনে বিধ্বস্ত হয়। সরকার কোনও স্থায়ী সমাধান করে না, সেই অভিযোগ করা হয় সাধারণ মানুষের থেকে। ভাঙন ইস্যু ভোটের প্রচারেও প্রতিবার থাকে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান করা হবে। সেই বার্তা প্রচার হয়েছিল।
আজ, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছিলেন। বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। একাধিক বিষয়ে আলোচনা, চর্চা হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই তিনি নদী ভাঙন রোধে বড় বার্তা দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুই জেলা মুর্শিদাবাদ-মালদহের ভাঙন রোধে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র। বাকি রাজ্য দেবে। ২৫০০ কোটি টাকা কেবল মুর্শিদাবাদের জন্যই খরচ হবে। সেই বার্তা এদিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাঙন রোধে যে স্থায়ী সমাধান সরকার চাইছে, তাও আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন।
