নেপালে জলপ্রলয়! বিপাকে আরামবাগের পর্যটক বোঝাই বাস। হড়পা বানের বিপর্যয়ের পর আতঙ্কে তাঁদের পরিবার। ঠিক মতো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে সন্ধ্যায় যোগাযোগ হয়েছে। পর্যটকরা সুস্থ বলেই খবর। তবে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁদের পরিবার। দ্রুত বাসটি ফিরে আসুক তা চাইছে পরিবারগুলি। বাসের মালিকও জানাচ্ছেন, তিনিও চান বাস ফিরে আসুক। ভ্রমণ পরেও হবে।
২৪ আগস্ট হুগলির আরামবাগ থেকে নেপালের বাস ছাড়ে। প্রায় ৬০ জনের পর্যটক দল রওনা দেয়। তাঁদের চেতন পার্ক, জনকপুর-সহ একাধিক জায়গা ঘুরে দেখার কথা। দেওঘর হয়ে ফিরে আসার কথা। নেপালে পৌঁছেও গিয়েছে দলটি। এ দিকে বুধবার দুপুরে নেপালের রসুয়া জেলার বিপর্যয়ের খবর দেখার পর থেকে আতঙ্কে ছিল পর্যটকদের পরিবার। যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে কথা হয়। জানা গিয়েছে, পর্যটকের দলটি বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নেপালের চেতনপার্কে রয়েছেন। তাঁরা সবাই সুস্থ রয়েছেন। তবে পরিবারের লোকের ফিরে না আসা পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না তাঁদের বাড়ির লোকের।
আরামবাগ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌভাগ্য দত্ত বলেন, "আমার মা কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে নেপাল ঘুরতে গিয়েছেন। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কথা হয়। তারপর দুপুরে খবরে জানতে পারি নেপালে হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে এলাকা। অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। আতঙ্কে ছিলাম। সন্ধ্যায় কথা হয়েছে। মা সুস্থই রয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে উদ্বেগে আছি। তাড়াতাড়ি সকলে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসুক এটাই প্রার্থনা। ঘোরা পরেও যাবে।" বাসের মালিক অরূপ গুহ জানিয়েছেন, "দুর্ঘটনা খবর পাওয়ার পর উদ্বেগে আছি। বাস ফিরিয়ে আনার কথা বলেছি।"
২৬ আগস্ট বুধবার নেপালে হড়পা বান। জলের তলায় গ্রাম। ছবি: এএফপি
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ভোটেকোশী নদীর জলস্তর ভয়ংকরভাবে বেড়ে গিয়ে ভেসে যায় নেপালের রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের নিচে চলে যায় গ্রামের পর গ্রাম। ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি-ঘর, সেতু, যানবাহন। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টার, সেনা। ত্রাণ ও উদ্ধার যাচ্ছে ভারতের বায়ু সেনাও। এখনও পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান।
