একই দিনে তিন সন্তান গর্ভে থাকা দুই প্রসূতির জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে করে নজির গড়ল নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের গর্ভধারণকে বলা হয় ‘ট্রিপলেট প্রেগন্যান্সি’। মহকুমা স্তরের সরকারি হাসপাতালে একই দিনে দু'টি জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের বাগাছড়ার লক্ষ্মীতলাপাড়ার বাসিন্দা সীমা সরকার এবং চর সরাগরের বাসিন্দা কাঞ্চন বিশ্বাস—দু’জনেই গর্ভে তিনটি করে সন্তান ধারণ করেছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের গর্ভধারণের সময়সীমা ছিল যথাক্রমে ১৮-১৯ সপ্তাহ এবং প্রায় ২২ সপ্তাহ। দু’জনেরই এর আগে একবার করে সিজারিয়ান প্রসব হয়েছিল।
চিকিৎসকদের মতে, একসঙ্গে তিনটি সন্তান গর্ভে থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই জরায়ুমুখ খুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে সময়ের আগে প্রসব কিংবা গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। দুই প্রসূতির ক্ষেত্রেও সেই ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তাঁদের জরায়ুমুখ শক্ত রাখতে বিশেষ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এরপর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর পবিত্র ব্যাপারী ও তাঁর চিকিৎসক দল স্পাইনাল অ্যানাস্থেশিয়ার মাধ্যমে দু’জনেরই জরায়ুমুখে ‘ম্যাকডোনাল্ড এনসারক্লেজ’ পদ্ধতিতে বিশেষ সেলাই করেন। অস্ত্রোপচারের পর দু’জন প্রসূতিই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
চিকিৎসক ডক্টর পবিত্র ব্যাপারী জানান, বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ধরনের অস্ত্রোপচার যথেষ্ট ব্যয়বহুল। তবে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সরকারি পরিষেবার আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই চিকিৎসা করা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, যতটা সম্ভব নিরাপদে অন্তত ৩৪ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভধারণের সময়সীমা বজায় রাখা, যাতে গর্ভস্থ তিন সন্তান পরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ার সুযোগ পায়।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এমন জটিল চিকিৎসা পেয়ে খুশি দুই প্রসূতির পরিবারও। তাঁদের আত্মীয় সুজাতা সরকার ও দীপ্তি সরকার জানান, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় তাঁরা সরকারি হাসপাতালের উপরই ভরসা করেছিলেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা এবং পরিষেবায় তাঁরা সন্তুষ্ট। বর্তমানে দুই মা ও তাঁদের গর্ভস্থ সন্তানরা সুস্থ রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। একই দিনে তিন সন্তান গর্ভে থাকা দুই প্রসূতির এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলেই মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
