shono
Advertisement
Zoo

ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না দত্তক-প্রাণীরা! খাদ্যে নজরদারির অধিকার অভিভাবকদের

দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন-- দত্তক নেওয়া পশুপাখিদের পাতে নজরদারি রাখতে পারবেন অভিভাবকরা। তারা ঠিকঠাক খাবার পাচ্ছে কি না অরণ্য ভবনে বসে দেখেত পারবেন অভিভাবকরা।
Published By: Jaba SenPosted: 01:33 PM Aug 09, 2026Updated: 01:33 PM Aug 09, 2026

চিড়িয়াখানার বাঘ, সিংহ, পাখি দত্তক নিয়ে থাকেন অনেকে। তার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন অভিভাবকরা। সেই টাকা দিয়ে দত্তক নেওয়া পশুপাখিদের খাওয়াদাওয়া, চিকিৎসার খরচ বহন করা হয়। কিন্তু অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, দত্তক নেওয়া পশুপাখিদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ সঠিক কি না তা যাচাই করার সুযোগ পেতেন না অভিভাবকরা। এবার সেই সুযোগ দিচ্ছে বনদপ্তর। দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন-- দত্তক নেওয়া পশুপাখিদের পাতে নজরদারি রাখতে পারবেন অভিভাবকরা। তারা ঠিকঠাক খাবার পাচ্ছে কি না অরণ্য ভবনে বসে দেখেত পারবেন অভিভাবকরা।

Advertisement

বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানান, চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের পাতে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না, তারা খাবার খাচ্ছে, না কি নষ্ট করছে এই সব কিছু নজরদারি করা হবে। সে জন্য একটি সফটওয়ার তৈরি করা হবে। ওই সফটওয়ারের মাধ্যমে রাজ্যের সবকটি চিড়িয়াখানা ও ওয়াইল্ড অ্যানিম্যাল পার্কের জীবজন্তুদের ডায়েট ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা অরণ্য ভবনে বসে দপ্তরের আধিকারিকরা নজরদারি চালাতে পারবেন। সেই সঙ্গে যাঁরা এই বন্যপ্রাণীদের দত্তক নিয়েছেন তাঁরাও অরণ্য ভবনে এসে দেখে যেতে পারবেন। এমনকী, সাধারণ মানুষও এই সুযোগ পাবেন। বনদপ্তরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

কোচবিহার, বর্ধমান রমনাবাগান ও আলিপুর এই তিন চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণ দত্তক নিয়ে রেখেছেন আইপিএস দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। আলিপুরে একটি হায়নার অভিভাবক তিনি। কোচবিহারে এসপি থাকাকালীন একটি বাঘরোল দত্তক নেন। তিনি বলেন, "দত্তক নেওয়া বন্যপ্রাণীরা আমাদের সন্তানসম। কিন্তু আমরা তাদের কাছে সব সময় যেতে পারি না। তারা কী খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে এসব কিছু দেখতে পাই না। যদি তাদের খাওয়াদাওয়া নজরদারি করার সুযোগ বনদপ্তর আমাদের দিয়ে থাকে তা হলে এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত হবে।" চিড়িয়াখানার আবাসিকদের সকলের ডায়েট এক নয়। বাঘ, সিংহ যে পরিমাণ মাংস খায়, হায়েনা, শেয়াল তা খায় না।

আবার হাতির খাবার আলাদা, জলহস্তী, গন্ডারদের পথ্য আলাদা থাকে। শিম্পাঞ্জি, ভল্লুকদেরও আলাদা আলাদা মাপের খাবার দেওয়া হয়। পাখিদের ক্ষেত্রেও আলাদা আলাদা খাবারের মাপ থাকে। রোজ পশুপাখিদের জন্য প্রচুর মাংস, ফল, সবজি, ডিম, ড্রাই ফুট আসে চিড়িয়াখানায়। এদের খাবারের পিছনে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে থাকে সরকার। চিড়িয়াখানার এই খাবার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বহু পুরনো। অবলা প্রাণীদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার চুরি হয়ে যায় বলে মাঝে মাঝে অভিযোগ শোনা যায়। দর্শকরাও মনে করেন বাঘ-ভল্লুকরা ঠিকমতো খেতে পায় না চিড়িয়াখানায়।

মন্ত্রী বলেন, "অভিযোগ রয়েছে বলে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সব চিড়িয়াখানায় রোজ ঘুরে ঘুরে নজরদারি চালানো সম্ভবপর নয়। চুরি রুখতে তাই 'এক জানালার' মাধ্যমে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রতিটি পশুপাখির ডায়েট চার্ট থাকবে। সেই ডায়েটে চার্ট অনুযায়ী খাবার ওজন করে খাঁচায় দিতে হবে।" তাঁর বক্তব্য, "কারও পাতে যদি খাবার কম পড়ে তা হলে সংশ্লিষ্ট চিড়িয়াখানা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আবার কোনও পশুপাখি খাবার নষ্ট করছে কি না সেটাও নজর রাখা যাবে। কেন সে খাচ্ছে না। তাকেও বেশি খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না জানা যাবে। এতে স্বচ্ছতা যেমন থাকবে, তেমনই তাদের স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে কারও ডায়েটে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা করা হবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement