shono
Advertisement

Breaking News

Alipurduar

এতটাও আপন হওয়া যায়! দুই প্রাক্তনীকে ১৫ বছর পর আইবুড়ো ভাত খাওয়ালো স্কুল

কতটা আপন হতে পারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়! তার প্রমাণ দিল আলিপুরদুয়ার শহরের পূর্ব শান্তিনগর জি এস এফ পি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:18 PM Jan 17, 2026Updated: 05:54 PM Jan 17, 2026

কতটা আপন হতে পারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়! তার প্রমাণ দিল আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরের পূর্ব শান্তিনগর জি এস এফ পি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৫ বছর আগে স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে যাওয়া দুই ছাত্রী রিয়া কুন্ডু ও সোমা তপাদারকে আদর করে আইবুড়ো ভাত খাওয়ালো এই বিদ্যালয়। শুক্রবার একেবারে ভাত, ডাল, তিন রকম ভাঁজা, মাছ, মাংস ও মিষ্টি দিয়ে থালা সাজিয়ে স্কুলের মিড ডে মিলের টেবিলেই পাত পেরে আইবুড়ো ভাত খেয়েছেন দুই প্রাক্তনী। তবে শুধু এই দুই প্রাক্তন ছাত্রীই নন, প্রাক্তনী দুজনের আইবুড়ো ভাত উপলক্ষে এতসব মেনু পাত পেড়ে খেয়েছেন স্কুলের অন্যান্য স্কুল ছাত্র ছাত্রীরাও। যা দেখে কার্যত আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন দুই ছাত্রী।

Advertisement

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শত্রুনাথ সিংহ বলেন, “কিছুদিন আগে আমার ছেলের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে ছেলেকে সকলে ডেকে ডেকে আইবুড়ো ভাত খাইয়েছে। এই দুটো ছাত্রীওতো আমার মেয়ের মতোই। একজনের বাবা একদিন আমাকে বলে স্যার আমার মেয়ে খুব স্কুলে মিড ডে মিল খেতে চায়। তার পর শুনলাম ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে। আরেকটি প্রাক্তন ছাত্রীরও বিয়ে ঠিক হয়েছে। পরে ভাবলাম স্কুলতো সকলের সবথেকে কাছের আত্মীয়। তাই স্কুলেই দুই প্রাক্তন ছাত্রীর আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর আয়োজন করলাম। এরাতো প্রত্যেকে স্কুলের এক একজন সন্তান। ওরা জীবনে সুখি হোক।”

মিড ডে মিলের টেবিলেই পাত পেরে আইবুড়ো ভাত খেয়েছেন দুই প্রাক্তনী

জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরের পূর্ব শান্তিনগর এলাকাতেই পূর্ব শান্তিনগর জি এস এফ পি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের পাশেই দুই প্রাক্তন ছাত্রী সোমা ও রিয়ার বাড়ি। রিয়া কুন্ডু বর্তমানে নার্সিং ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকুরি করছে। ২০১০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার করে সে। সোমাও নার্সিং কোর্স সম্পূর্ণ করেছে। ২০১১ সালে এই বিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেড়িয়ে যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে আবার স্কুলের মিড ডে মিলের টেবিলে এক সঙ্গে দুজনে পাত পেরে অন্যান্য কচিকাচাদের সঙ্গে ভাত খেলেন। রিয়া বলে, “আমার স্কুলের মিড ডে মিলের ভাত খেতে খুব ভালো লাগতো। তাই বাবাকে বলেছিলাম বাবা স্যারকে বলে স্কুলের মিড ডে মিলে ডাল আর আলুসেদ্ধ খাওয়ার ব্যবস্থা করো। স্যার দেখি আমাদের জন্য একেবারে আইবুড়ো ভাতের ব্যবস্থা করেছেন। এই স্যার আমাদের ছোট বেলায় নোখ পর্যন্ত কেটে দিতো। আমরা সত্যি আবেগ প্রবন হয়ে গেছি। এই বিদ্যালয় আমাদের আত্মার আত্মীয়।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement