হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর উপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ। বালুরঘাটের বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্তের বাঁ হাত এবং পায়ের অধিকাংশ পুড়ে গিয়েছে। তিনি বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার এই বিষয়ে বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। জমি নিয়ে শরিকি বিবাদের আক্রোশে এমন হামলা বলে দাবি পরিবাদের সদস্যদের। আতঙ্কে ওই নিগৃহীতা ও তাঁর পরিবার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী। ওই মহিলার স্বামী ছোটন রজক একসময় বালুরঘাট টাউন তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। বছর কয়েক আগে তিনি মারা যান। তারপর থেকেই বৃদ্ধা মা ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ওই মহিলা থাকেন রঘুনাথপুরের বিএম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার বিকেলের পর তিনি হাসপাতাল থেকে ডিউটি সেরে টোটোয় চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, বাড়ি ঢোকার কিছুটা আগেই পাঁচিলের ধার থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে কেউ বা কারা অ্যাসিডের বোতল ছুঁড়ে মারে।
ওই হানায় তাঁর বাঁ হাত ও পা পুড়ে গিয়েছে। গুরুতর জখম তিনি। আর্তনাদে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তিনি এখন চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তের বৃদ্ধা মা দামিয়া ভাণ্ডারি বলেন, "দুপুরে বাড়ির ছাদে গিয়েছিলাম। দেখি পাশের ইট ভাটার বিল্ডিংয়ের ছাদে দুজন ঘোরাঘুরি করছে। ওই দুজন জিজ্ঞাসা করে এটা কি সন্তোষীর বাড়ি, তিনি কোথায়? আমি বলি হাসপাতালে ডিউটিতে গিয়েছে। কিন্ত কী দরকার জিজ্ঞাসা করতে বলে, একটু পরে ঘটনা ঘটবে। এরপরেই ওরা চলে যায়।" পরে তিনি জানতে পারেন মেয়ের উপর অ্যাসিড হামলা হয়েছে।
অভিযোগ, ওই পরিবারের জমি বিক্রি নিয়ে অনেকদিন ধরেই শরিকি বিবাদ চলছে। মাঝেমধ্যে বাড়িতে হুমকি চিঠি আসে! মোবাইলেও হুমকি মেসেজ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। সেই শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
