তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসকে টেক্কা! বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই পাহাড়ে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। তারা এবার নিজেদের প্রতীকে লড়াই করবে পাহাড়ে। তিন আসন - দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে রবিবার। দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজিপিএমের প্রার্থী বিজয় কুমার রাই। কালিম্পং শহরে গতবারের বিধায়ক রুদেন সদা লেপচা ফের প্রার্থী হচ্ছেন। কার্শিয়াং বিধানসভায় প্রার্থী হচ্ছেন অমর লামা। এদিকে, অনীত থাপারা প্রার্থী ঘোষণা করায় বাকি দলগুলি আরও চাপে। তাঁরা কীভাবে ভোটে লড়বে, তা নিয়ে কার্যত দিশেহারা।
ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এবার নিজেদের প্রতীকে লড়াই করবে পাহাড়ে। তিন আসন - দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে রবিবার।
- দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজিপিএমের প্রার্থী বিজয় কুমার রাই।
- কালিম্পংয়ের গতবারের বিধায়ক রুদেন সদা লেপচা ফের প্রার্থী হচ্ছেন।
- কার্শিয়াং বিধানসভায় প্রার্থী হচ্ছেন অমর লামা।
-
কালিম্পংয়ের গতবারের বিধায়ক রুদেন সদা লেপচা ফের প্রার্থী হচ্ছেন।
পাহাড়ে জিটিএ-সহ দার্জিলিং পুরসভা দখলে রয়েছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার। পাহাড়ে তাদেরই নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজ চলছে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজে আগ্রহী অনীত থাপা নিজে। পাহাড়ও এখন উন্নয়নের পক্ষেই। প্রতিটি বাসিন্দা চান, পাহাড়ে শান্তি বিরাজ করুক। পর্যটকের ঢল নামুক পাহাড়ের অলিগলিতে। তাই তাঁরাও অনীতের সঙ্গেই রয়েছেন। এদিকে অনীত থাপা নির্বাচন নিয়ে অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। প্রার্থীও মোটের উপর ঠিক করা ছিল। আর তাই রবিবার নির্বাচন ঘোষণা হতেই প্রথম দল হিসেবে বিজিপিএম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল। দলের প্রতিটি সদস্যের মতামত নিয়ে তারা এই প্রার্থী বাছাই বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পাহাড়ে দেওয়াল লিখনের চল নেই। তাই ইতিমধ্যে দলের প্রার্থীদের নাম ব্যানার, ফেক্স, পোস্টার তৈরি করে ফেলেছে বিজিপিএম। মঙ্গলবার থেকেই গোটা পাহাড় বিজিপিএমের পতাকা-সহ পোস্টার, ব্যানারে মুড়ে ফেলা হবে। নির্বাচনে তারা একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও তারা আশাবাদী, প্রতিটি নির্বাচনের মত এবছরও তৃণমূল তাদের সমর্থন জানাবে।
দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজিপিএমের প্রার্থী বিজয় কুমার রাই।
শুধু তাই নয়, পাহাড়ের তিনটি আসনে জয় নিয়ে বিষয়েও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। এ বিষয়ে দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, "আমরা অনেকদিন ধরেই প্রস্তুত ছিলাম। শুধু অপেক্ষা করছিলাম কবে নির্বাচন ঘোষণা হবে। দিন ঘোষণার আগে প্রার্থীর নাম জানানো উচিত নয় বলেই জানায়নি। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। তাই জয়ের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। আর তৃণমূলের সঙ্গে কথা না হলেও আমরা আশাবাদী তারা আমাদের সঙ্গেই থাকবে। বাকি দল কি করবে তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। স্থানীয় নির্বাচনে আমরাই শক্তিশালী।"
কার্শিয়াং বিধানসভায় প্রার্থী হচ্ছেন অমর লামা লামা।
অন্যদিকে, একদা পাহাড়ের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং পুরোপুরি দিশেহারা। তিনি এখন কী করবেন, বুঝতে পারছেন না। তার কারণ পাহাড়বাসীকে পৃথক রাজ্যের স্বপ্ন দেখিয়ে বরাবর বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন। কিন্তু বিজেপি বারবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ করেছে। তাই তারা এখন হামরো পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অজয় এডওয়ার্ডের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাহাড়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছেন। এবিষয়ে বৈঠকও হয়েছে উভয়পক্ষের। কিন্তু এসব নিয়ে কথা বলতে নারাজ তারা। কিন্তু তারা শেষমেশ কী করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এদিন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমরা বৈঠকে বসেছি নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেই। জোট নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সব দরজা খোলা রয়েছে।"
