দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে তালিকায় তাঁকে ‘প্রবাসী ভারতীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোবেলজয়ীকে শুনানির নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। এই ইস্যুতে একাধিকবার কমিশনকে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিতর্কের মধ্যে অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি 'প্রতীচী'তে গিয়ে শুনানির কাজ সম্পন্ন করেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাম থাকবে তো? তা নিয়ে চর্চা চলছিল। কিন্তু শনিবার যে তালিকা কমিশন সামনে এনেছে তাতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নাম রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
গত বছর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর শুরু হয় শুনানির কাজ। অভিযোগ ওঠে, ছোট্ট ভুলেও সাধারণ মানুষকে এসআইআর নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। সেই তালিকায় ছিলেন খোদ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। আমেরিকার বোস্টন শহরের বাসিন্দা তিনি। ভারতের নাগরিক হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়েই অমর্ত্য সেন এনুমারেশন ফর্ম জমা করেন। এরপরেও কেন নোবেলজয়ীকে নোটিস, তা নিয়ে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে! ভাবুন, দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে আসা ব্যক্তিত্বকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়েনি। টলিউডের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, অভিনেতা-সাংসদ দেবকে নোটিস, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে নোটিস দিয়েছে। এগুলো কি ষড়যন্ত্র নয়?” এমনকী এই বিষয়ে একাধিকবার সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এমনকী বস্টনে বসেই বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করেন অমর্ত্য সেনও। এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। মানুষকে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এমনটা হলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও।”
প্রবল চাপের মুখে পড়ে কেন অমর্ত্য সেনকে নোটিস তা ব্যাখ্যা দেয় কমিশন। এমনকী বাড়িতে গিয়ে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। শুনানিতে কমিশনের আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নথি, অমর্ত্য সেনের পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং তাঁর মা প্রয়াত অমিতা সেনের মৃত্যু শংসাপত্র-সহ একাধিক প্রাসঙ্গিক নথিও জমা দেওয়া হয়।এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম থাকবে কি না, তা নিয়ে ‘প্রতীচী’ বাড়ির সদস্যদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এদিন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ মহলে অনেকটাই স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
