তীব্র জ্বালানির সংকট। সকাল হতেই গ্যাস পেতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ইতিমধ্যে গ্যাসের অভাবে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁয় তালা ঝুলেছে। এই অবস্থায় চাহিদা বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির। এমনকী কলকাতা-সহ দেশের মেট্রো শহরগুলিতে বহু রেস্তরাঁই রান্নার জ্বালানি হিসেবে বেছে নিচ্ছে জ্বালানি কাঠ এবং কয়লাকে। সেই আট-নয়ের দশকের চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে আবার! এদিকে জ্বালানি কাঠের চাহিদা বাড়তেই সতর্ক বনদপ্তর। আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সময় জঙ্গলে কাঠ চোরেদের আনাগোনা বাড়তে পারে। সেদিকে নজর রেখেই জলপাইগুড়ি বন বিভাগের প্রতিটি রেঞ্জ এবং বিটে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্যাসের অভাবে কলকাতার হোটেল-রেস্তরাঁতে ক্রমশ বাড়ছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। বিশেষ করে কলকাতার খাদ্য গলি ডেকার্স লেন থেকে পার্ক সার্কাসের বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকান, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর, সর্বত্র দুশ্চিন্তার ঢেউ খেলছে। আবার গেরস্তর রান্নাঘরেও যেন আঁধার নামার জোগাড়। বুকিংয়ের পরেও গ্যাস না পৌঁছনোয় মাথায় হাত গৃহিণীর। এই অবস্থায় বাড়ছে কয়লা, জ্বালানি কাঠের ব্যবহার। বিপুল এই জ্বালানির কাঠের চাহিদা পূরণে কোপ পড়তে পারে জঙ্গলের গাছে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই বহিরাগতদের জঙ্গলে ঢুকতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনদপ্তর। দিনের পাশাপাশি নাইট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ৮ টি রেঞ্জ ও ২৫ টি বিটে। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই গ্রেফতারের নির্দেশ।
বহিরাগতদের জঙ্গলে ঢুকতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনদপ্তর। দিনের পাশাপাশি নাইট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ৮ টি রেঞ্জ ও ২৫ টি বিটে। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই গ্রেফতারের নির্দেশ।
জঙ্গলে কড়া নজর বনদপ্তরের।
বনদপ্তরের কথায়, শুধু গাছে কোপ পড়ছে তা নয়, বন্যপ্রাণীর হামলায় প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। এই নিয়ে সম্প্রতি জরুরি বৈঠকেও বসেন জলপাইগুড়ি বন বিভাগের বনাধিকারিক জিজু জেসপার জে। প্রতিটি রেঞ্জ এবং বিট অফিসকে জঙ্গলে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সংলগ্ন গ্রাম ও বন বস্তিগুলিতেও সচেতনতার প্রচার কর্মসূচি শুরু করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির কাঠের বিক্রি একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন বহু কাঠ বিক্রেতাই। তাঁদের কথায়, এক সময় জঙ্গল থেকে দেদার কাঠ ঢুকতো। এখন কড়াকড়ি বেড়েছে। তবে গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি কাঠের বিক্রি বাড়বে বলেই মনে করছেন বিক্রেতারা।
