ভারতের উপর ফের ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকা। বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি দিল্লি। এহেন পরিস্থিতিতে আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, মোদিকে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভালো বন্ধু। কিন্তু পাশাপাশি ট্রাম্পের মত, বহুদিন ধরে ভারত মার্কিন অর্থনীতির সুযোগ নিয়েছে। এবার সেটার পালটা দেওয়ার পালা।
মার্কিন আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের উপর এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর। মার্কিন আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের বিনিময়ে তৈরি পণ্যের আমদানিতে বাড়তি শুল্ক বসানো উচিত। সেই যুক্তি দেখিয়েই ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি কর চাপানোর কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। বলার অপেক্ষা রাখে না, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সংকটের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে। তাই শুল্ক চাপানো নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
এই ডামাডোলের মধ্যে শুল্ক চাপানো ইস্যুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি বলেন, "আমরা বাণিজ্য চুক্তি করে ফেলব কারণ মোদিকে আমার খুব পছন্দ। প্রধানমন্ত্রীকে আমার খুব ভালো লাগে। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু, আমাদের বোঝাপড়াও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু বিষয়টা হল, ভারত দিনের পর দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা নিয়েছে। আমাদের পণ্যে ওরা প্রচুর শুল্ক বসিয়েছে কিন্তু আমাদের কোনও কর দেয়নি। এবার সেই ছবিটা পালটে যাবে। আমরা ভারত থেকে প্রচুর পয়সা কামাচ্ছি।"
এই বিষয়ে কেন্দ্রের বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতি, “৩০১ ধারা কার্যকর করা হবে কিনা সেই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়াও, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে।” উল্লেখ্য, প্রায় একবছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা। কিন্তু সমাধানসূত্র অধরাই।
