জায়গার সঙ্গে আধাত্ম্যের মেলবন্ধনই আসল উদ্দেশ্য। শ্রী চৈতন্যের স্মৃতি-বিজরিত জায়গার নামেও যেন থাকে মাহাত্মের ছাপ। সেই লক্ষ্যেই এবার সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নামে বদল আনার প্রস্তাব দিলেন খড়দহের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী।
মন্ত্রীর বক্তব্য, প্রভু নিত্যানন্দর স্মৃতিবিজড়িত খড়দহ-পানিহাটির বৈষ্ণব ঐতিহ্য এবং প্রাচীন মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক পরিচিতিকেই সামনে আনতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের কাছে স্টেশন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কল্যাণ জানান, "চৈতন্য ভাগবত-সহ বিভিন্ন বৈষ্ণব গ্রন্থে খড়দহ ও পানিহাটির উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই অঞ্চলের বিভিন্ন মন্দিরকে যুক্ত করে টেম্পল ট্যুরিজম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।" তাঁর কথায়, "শ্রীপাট খড়দহ এবং পানিহাটি নামে স্টেশনের নামকরণ হলে এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এলাকার চেহারাই বদলে যাবে। কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।"
মন্ত্রী আরও জানান, "নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরে মোট সাতটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খড়দহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে বিটি রোডের সংযোগকারী একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা, যা পূর্ত দপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।" পাশাপাশি বলরাম হাসপাতালের উন্নয়ন, খড়দহের খাল সংস্কার এবং খড়দহ স্টেশনকে মডেল স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলার আবেদনও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের কাছে জানানো হয়েছে। খড়দহের খাল সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য, "দীর্ঘদিন ধরে পাঁক-পলি জমে খালটির নাব্যতা কমেছে। পলি অপসারণ করে খালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রয়োজন।"
একই সঙ্গে বিটি রোড থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত খালের উপর পিলারের সাহায্যে একটি রাস্তা নির্মাণ করে গ্রামীণ খড়দহের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাঁর দাবি, "এ ক্ষেত্রে আলাদা করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।" তবে রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের নাব্যতা বা জলপ্রবাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
