পাহাড়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ইস্যুতে জিটিএ ফাইলস খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা অনীত থাপার। এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে তিনি একটি পোস্টও লিখেছেন। তিনিও জিটিএ তদন্তের দাবিকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর পাহাড়ের রাজনীতিতেও জোর গুঞ্জন, চর্চা শুরু হয়েছিল। জিটিএ-তে তৃণমূল সরকারের আমলে লাগামছাড়া দুর্নীতি হয়েছে, সেই অভিযোগও সামনে আসছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ইস্যুতে জিটিএ ফাইলস খোলার কথা জানিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই জিটিএ চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন অনীত থাপা। শুধু তাই নয়, তিনি জিটিএ সভাসদ পদও ছেড়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে অনীত থাপা একটি বার্তা দিয়েছেন। পাহাড়ের এই নেতা লিখেছেন, "রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এই সরকারকে মেনে নিয়েছে। জিটিএ নিয়ে পাহাড়ের মানুষের ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। সবাই চাইছে জিটিএ তদন্ত করা হোক। আমিও চাইছি তদন্ত হোক। কিন্তু জিটিএতে বেশি টাকা আসত না।" তিনি আরও জানিয়েছেন, জিটিএ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেজন্যই চেয়ারম্যান ও সভাসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। এবার কী হবে? জিটিএ-এর দায়িত্বে কে আসবেন? বিমল গুরুং কি এবার নতুন করে জিটির-এর এই চেয়ারে বসবেন? সেই চর্চা শুরু হয়েছে।
গতকাল, মঙ্গলবার পাহাড়ে ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াংয়ের প্রশাসনিক বৈঠক করার পাশাপাশি সভাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভা থেকে ফের জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে সরব হন তিনি। সেই সভা থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে এই রাজ্যে নেগেটিভ সরকার ছিল। নিয়োগ করা হয়নি ঠিকমতো। উলটে জিটিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তবে বিজেপি সরকারের আমলে যে তা হবে না তা এদিন স্পষ্ট করে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ”’না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা”। সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। উল্লেখ্য, জিটিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ইতিমধ্যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনীত থাপা পদত্যাগ করলেন।
