shono
Advertisement
Bardhaman

জঙ্গি হামিমের 'হানিট্র্যাপ'! বাংলার রাজনেতাদের ফাঁসাতে ঝাড়খণ্ডের বাঙালি সুন্দরীর ফাঁদ

হামিম মণ্ডলকে জেরায় এসটিএফ জানতে পেরেছে, অর্পিতা নামে ওই তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হতো।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 08:37 PM Jul 31, 2026Updated: 08:44 PM Jul 31, 2026

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে ধৃত জইশ জঙ্গিই দিনভর খবরের শিরোনামে। তাকে জেরা করে একের পর বিস্ফোরক তথ্য হাতে পাচ্ছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এবার হামিমের 'হানিট্র্যাপ' নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এল তাঁদের। জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের এক বাঙালি সুন্দরীকে নিজের কাজে লাগিয়ে বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁদের ফেলার প্রয়াস চালিয়েছিল হামিম। ওই তরুণীর সঙ্গে তার নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হতো। সেসব চ্যাট উদ্ধার করে হামিমের গোটা নেটওয়ার্ক জানার চেষ্টায় তদন্তকারীরা।

Advertisement

কীভাবে কাজ করত হামিম ও অর্পিতা? এসটিএফ তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, জইশ জঙ্গি হামিমের মূল টার্গেট ছিলেন বাংলার রাজনীতিবিদরা। আর তাই সে বাঙালি তরুণীকেই 'ফাঁদ' হিসেবে ব্যবহার করেছিল। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে অর্পিতার নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করিয়ে দিয়েছিল সে। তার মাধ্যমেই তাঁদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য চলে আসত হামিমের নাগালে। যার উপর ভিত্তি করে হামলার ব্লুপ্রিন্ট ছকত।

শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিংয়ের জিম থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গ্রেপ্তার হয় হামিম মণ্ডল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও পুরদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ছিল জঙ্গি হামিমের টার্গেট। তাঁদের উপর হামলার ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল সে। এদিন বর্ধমান আদালতে হামিমকে পেশ করে ১৪ দিনের হেফাজতে নেয় এসটিএফ। এরপর তাকে ম্যারাথন জেরা করে বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। জানা যায়, বাংলার রাজনীতিকদের উপর হামলা চালাতে তাঁদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহের জন্য ঝাড়খণ্ডের এক বাঙালি তরুণীকে 'হানিট্র্যাপ' হিসেবে ব্যবহার করেছিল সে। অর্পিতা সরকার নামে ওই তরুণী ঝাড়খণ্ডের বারহাওড় এলাকার বাসিন্দা। হামিমের সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পাওয়া গিয়েছে।

কীভাবে কাজ করত হামিম ও অর্পিতা? এসটিএফ তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, জইশ জঙ্গি হামিমের মূল টার্গেট ছিলেন বাংলার রাজনীতিবিদরা। আর তাই সে বাঙালি তরুণীকেই 'ফাঁদ' হিসেবে ব্যবহার করেছিল। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে অর্পিতার নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করিয়ে দিয়েছিল সে। তার মাধ্যমেই তাঁদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য চলে আসত হামিমের নাগালে। যার উপর ভিত্তি করে হামলার ব্লুপ্রিন্ট ছকত। কিন্তু শেষরক্ষা আর হয়নি। এসটিএফের তুখড় চালে জিম থেকেই হাতেনাতে পাকড়াও হয় হামিম মণ্ডল।

আরও জানা গিয়েছে, হামিমদের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানেরই মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল ১৯৯৮ সাল থেকে কর্মসূত্রে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকেন। সেখানেই এক অবাঙালি মহিলাকে বিয়ে করে বসবাস করতেন। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মাস দুয়েক আগে রেনেসাঁয় রোহিনি টাওয়ারে একতা মেহেরার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন মনিরুদ্দিন। পরিবারের সকলেই থাকতেন। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায় ফ্ল্যাট তালা বন্ধ। প্রতিবেশী শাশ্বতী গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব খানরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাঁদের পাশেই একজন 'জঙ্গি'র বসবাস ছিল। ঘুণাক্ষরেও তাঁরা টের পাননি কিছু।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement