চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: বঙ্গ রাজনীতিতে ফের কু-কথার স্রোত। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা। এবার বিতর্কে এক বিজেপি নেতা। তাঁর নিদান, “বিজেপি কর্মীদেরকে খোলাখুলি বলছি তৃণমূল আপনার গায়ে হাত দিলে হাতের আঙুলগুলো কেটে নিন। মেরে ওদের হাত ভেঙে দিন। আঙুল থাকলেই লাঠি ধরবে, বোমা মারবে। গণতন্ত্রকে হত্যা করার যে হাত সেই হাতকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এবার থেকে ইটের বদলা ইট, আর পাটকেলের বদলা পাটকেলই হবে।” দিলীপ ঘোষের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস রায় এই ভাষাতেই হুমকি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। আসানসোল জিটি রোডে অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা যখন বিক্ষোভ দেখান তখন বিতর্কিত বক্তব্যটি রাখেন ওই বিজেপি নেতা।
[বিজেপির ‘চক্রান্তে’ অশান্ত পাহাড়, মোদির কুশপুতুল নিয়ে প্রতিবাদের পথে তৃণমূল]
বিক্ষোভ সভায় বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি অবশ্য নানা যুক্তি দেখিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি আক্রমণের পালটা আক্রমণের কথা বলেছেন। মেরে হাত গুঁড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে প্রতি আক্রমণের জন্য। তৃণমূল বা সিপিএম, কেউ ছাড় পাবেন না। কারণ বিজেপি কর্মীদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার আছে। তাপস রায়ের সংযোজন, গণতন্ত্রে ও আদালতের ওপর আস্থা থাকলেও রাজ্য প্রশাসনের ওপর নেই। আসানসোলে বাবুল সুপ্রিয়র বুকে তৃণমূল ইট ছুড়েছিল। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ে রাজ্য সভাপতির ওপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। পুলিশ প্রশাসনের এহেন ভূমিকার জন্য প্রতি আক্রমণে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। সমালোচনার মুখেও তাঁর দাবি, নিজের বক্তব্য থেকে এক বিন্দু সরবেন না।
[পাহাড়ের ৩ জায়গায় কাটা হল রাস্তা, নেপথ্যে কি গুরুংপন্থীরা?]
এই উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে শাসক দল। আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি তৃণমূল করে না। বিজেপির জেলা সভাপতি মারপিটের সংস্কৃতি আমদানি করলেও আসানসোল তৃণমূলের কাছে এসবের সময় নেই। ওই দলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও আসানসোলে অশান্তি পাকাবার জন্য আসেন। এখন বিজেপিও চাইছে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে গন্ডগোল পাকানোর। শহরের মানুষকে শান্তিতে রাখার দায়িত্ব আমাদের। আমরা সেই দায়িত্বই পালন করছি।” দিলীপ ঘোষের ঘটনার পর পালের হাওয়া কাড়তে শিল্পশহরে বিজেপি বেলাগাম মন্তব্য করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
