চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোলের সালানপুরে অন্য ভূমিকায় দেখা মিলল পুলিশের। খাঁকি উর্দিধারীরা এবার চক-ডাস্টার হাতে শিক্ষকের ভূমিকায়। শিক্ষার প্রসারে পুলিশের উদ্যোগে চালু হল স্কুল। যেখানে উর্দিধারীরা নিজেদের উদ্যোগে স্কুলের পঠন-পাঠন চালাবেন। আর পড়াশোনা করবেন গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতারা। সালানপুর থানার উদ্যোগে বরাভুঁই গ্রামে এরকম একটা বিদ্যালয়ের সূচনা হল। যার নাম ‘সহজপাঠ’ স্কুল।
[দুর্ঘটনা আরও কমাতে মুখ্যমন্ত্রীর নয়া দাওয়াই, ‘স্লো ড্রাইভ, সেভ লাইফ’]
সালানপুর থানার আল্লাডি গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম এই বরাভুঁই। সালানপুর থানার ওসি সুবীর কুমার চৌধুরির উদ্যোগ নিয়ে স্কুলটি চালু করেন। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এডিসিপি (ওয়েস্ট) অনমিত্র দাস স্কুলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এডিসিপি ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসিপি ওয়েস্ট অলোক কুমার মিত্র, সালানপুর বিডিও তপন সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামের ৪০ জন শিশুকে পাঠ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০০ মহিলাকে শাড়ি ও ৩০০ জনকে কম্বল দেওয়া হয় ও গোটা গ্রামকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে খবর। এডিসিপি ওয়েস্ট অনমিত্র দাস বলেন, “শুধু অপরাধমুক্ত সমাজ নয়, প্রকৃত শিক্ষাও মানুষকে অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের লক্ষ্য অপরাধমুক্ত সমাজ ও শিক্ষিত সমাজ। সালানপুর ওসি এই কাজটি বাস্তবে করে দেখিয়েছেন।” এডিসিপির সংযোজন, এই স্কুল থেকে দুঃস্থ ও পিছিয়ে পড়া গ্রামবাসীদের পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা হবে।
[ট্রেনে টিকিট সংরক্ষণে বাড়তি সুবিধা পাবেন মহিলা ও প্রবীণ নাগরিকরা]
স্কুলের জন্য দু’জন শিক্ষক ইতিমধ্যে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁদের মাসিক বেতন দেওয়া হবে পুলিশ বিভাগ থেকে। সারাবছর বই-খাতা বা পড়াশোনার সামগ্রী দেওয়ার ভার বহন করবে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ৷ ওসি সুবীর কুমার চৌধুরির বক্তব্য, পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মীনার অনুপ্রেরণায় তিনি এই কাজটি করতে পেরেছেন। তাঁর সংযোজন এবার স্কুলটিকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে প্রমাণ করতে হবে পুলিশ মানবিক ও সামাজিক। মাঝেমাঝেই ওই স্কুলে খাঁকি উর্দির পুলিশকর্মী বা অফিসারদেরও দেখা যাবে শিক্ষকের ভূমিকায়।
[হোলির রঙে মাতোয়ারা ক্রীড়া দুনিয়া, বাদ গেলেন না বিদেশি ক্রিকেটাররাও]
The post নিরক্ষরদের জন্য স্কুল তৈরি পুলিশের, ‘সহজপাঠ’ দিতে চক হাতে উর্দিধারীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
