পুরসভার পার্কিং জোনে বেআইনিভাবে জাল স্লিপ ব্যবহার করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। আসানসোল (Asansol) বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার এলাকায় সোমবার আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের অভিযানে প্রকাশ্যে এসেছে এই চক্র। পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি এই সকল পার্কিং জোন দখল করে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। এই সকল পার্কিং থেকে যে রাজস্ব সরকারের খাতে যাওয়ার কথা তা এতদিন যাচ্ছিল না। সেই কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। শুধুমাত্র পার্কিং জোন নয়, বালি খাদান, পাথর খাদান-সহ বিভিন্ন সরকারি এলাকা চলে গিয়েছিল প্রভাবশালীদের দখলে। এর ফলে রাজস্বে ব্যাপক ঘাটতি হয়েছে। এবিষয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, এবার থেকে কোনও বেআইনি পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না। মাটিতে রং দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে বৈধ পার্কিং স্পট। পার্কিং স্লিপের উপরেও নজরদারি চালানো হবে।
জানা গিয়েছে, আসানসোলে দূরপাল্লার বাস, মিনিবাস, দুই চাকা কিংবা চার চাকা গাড়ি থেকে আদায় করা হত টাকা। এই অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে চারজন পার্কিং কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। নকল স্লিপগুলি বাজেয়াপ্ত করে। আটক হওয়া কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, উত্তর আসানসোলের বাসিন্দা জনৈক হানি সিং এই চক্রের মূল অভিযুক্ত। বর্তমানে পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এর আগে গত শনিবারও আসানসোল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একই ধরনের বেআইনি পার্কিংয়ের হদিশ পেয়েছিল, যেখানে বাপ্পা রায় নামে এক ব্যক্তির নাম জড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, এই গোটা চক্রটিই তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কয়েকজন নেতার মদতে চালানো হচ্ছিল।
পুর ও নগরন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। অবৈধ পার্কিং রাখা যাবে না। রাস্তার দুই ধারে বেআইনিভাবে পার্কিং করা যাবে না। এবার থেকে বৈধ পার্কিং এলাকাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে। মাটিতে রং দিয়ে দাগ দিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে বুঝতে পারেন। পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম পরে কাজ করতে হবে। এছাড়া, তাঁরা গাড়ি চালকদের কী ধরনের পার্কিং স্লিপ দিচ্ছেন, তার উপরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনওভাবেই কোনও রকম বেআইনি পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না।
