তৃণমূল সরকারের আমলে একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা হয় জয়দেব সেতু। কিন্তু উদ্বোধনের বছর কাটতে না কাটতেই বসতে শুরু করেছে রাস্তা। ব্রিজের একাধিক জায়গায় বসে গিয়েছে রাস্তা, উঠে গিয়েছে পিচ। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি জায়গাতে ফাটলও দেখা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। আর তা সামনে আসতেই প্রশ্নের মুখে ১৩৮ কোটির এই প্রকল্প। অভিযোগ, ব্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এরপরেই ব্রিজ তৈরির দায়িত্বে থাকা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও যাবতীয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলে খবর।
ব্রিজ তৈরির দায়িত্বে থাকা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও যাবতীয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলে খবর।
স্থানীয় মানুষজন বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহারকে যুক্ত করতে একটি ব্রিজের তৈরির দাবি জানাচ্ছিলেন দীর্ঘসময় ধরে। সেই দাবি মেনেই ব্রিজ তৈরির অনুমোদন দেন পূর্বতন সরকার। পূর্তদপ্তরের দায়িত্বে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই ব্রিজ তৈরি হয়। গতবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অজয় নদের উপর বহু প্রতীক্ষিত জয়দেব সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন। এই সেতু চালু হওয়ায় একদিকে অজয় নদের পারাপারের স্থানীয় মানুষজনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে, অন্যদিকে দুর্গাপুর থেকে বোলপুর এবং সিউড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হয়।
কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই ব্রিজের কঙ্কালসার ছবি প্রকাশ্যে! সেতুর বিভিন্ন অংশে রাস্তা বসে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব অংশ দিয়ে নিয়মিত ভারী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার এবং মালবাহী গাড়ি চলাচল করে, সেই অংশগুলিতেই বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোথাও রাস্তা দেবে গিয়ে গর্তের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার ফাটল স্পষ্ট। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এত বড় প্রকল্পের রাস্তা যদি এক বছরের মধ্যেই বসে যেতে শুরু করে, তাহলে নির্মাণের গুণমান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কেন টেকসই কাজ হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এই ঘটনাকে সামনে রেখেই রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা বলেন, ''আমি শুনেছি, জয়দেব সেতুর বিভিন্ন অংশ বসছে। এই মধ্যেই এই অবস্থা, বলার কিছু নেই। যে দপ্তরের ঠিকাসংস্থা এই কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি জেলাশাসককে বিষয়টি জানাচ্ছি। কেন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলো সেই নিয়েও সরকারিভাবে তদন্ত হবে।”
