ফেলো কড়ি, মাখো তেল! এই প্রবাদই যেন প্রযোজ্য এসআইআর-এ ভোটার তালিকায় নাম তোলায়! ১০ হাজার টাকা মাথাপিছু দিলেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকায় যোগ হয়ে যাবে? এসআইআর আবহে এই অডিও ভাইরাল হয়েছে। তালিকায় নাম তুলে দিতে টাকা চাইছেন খোদ বিএলও! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাগদায়। শুরু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল রাজনৈতিক চর্চাও। যদিও ভাইরাল কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
অভিযুক্ত বিএলওর নাম চন্দ্রকান্ত মণ্ডল, বাড়ি বাগদা বিধানসভার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের নপাড়া ১২০ নম্বর বুথে৷ পেশায় বয়রা ঝাউখালি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তিনি। তাঁরই একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিওয় শোনা গিয়েছে, বয়রা-ন পাড়ার ১২০ নম্বর বুথের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। জনৈক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা করে মাথাপিছু দাবি জানানো হয়েছে! ছয়জনের নাম তোলার কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে! মাইক্রো অবজারভারের নাম করে ওই টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিষয় জানাজানির পরই বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর ইমেলের মাধ্যমে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও বিডিওর কাছে বিএলওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
জনৈক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা করে মাথাপিছু দাবি জানানো হয়েছে! ছয়জনের নাম তোলার কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে!
যে ব্যক্তির থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশ থেকে বেশিদিন হয়নি এসেছেন! এদেশের পরিচয়পত্র ঘুরপথে তৈরি করানো হয়েছে! ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ওই পরিবারের কারও নাম নেই বলে খবর। এসআইআর আবহে ওই পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার জন্য মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএলও। প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই কণ্ঠস্বর তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিএলও চন্দ্রকান্ত মণ্ডলের বাবা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ছেলেকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।" এই বিষয়ে তৃণমূল ও বিজেপি অভিযোগ-পালটা অভিযোগ শুরু করেছে। এ বিষয়ে বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তৃণমূল নেতা তরুণ ঘোষ বলেন, "যদি কেউ অন্যায় করে থাকে অবশ্যই তদন্ত করে বিচার হবে৷ আমাদের সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। বিজেপির এখন এলাকায় কোনও অস্তিত্ব নেই। তৃণমূলের নাম জড়িয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে।" এদিকে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের সহযোগিতায় এসব হচ্ছে। তৃণমূলের প্রশ্রয়েই বিএলও এই কাজ করছে। যে পরিবারকে নিয়ে এই ঘটনা সামনে এসেছে, তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
