টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: রেশনে ব্যবস্থায় বেনিয়মের অভিযোগে বাঁকুড়া জেলা রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সহ তিনজন রেশন ডিলারকে সাসপেন্ড করলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা বসু গোদারা। এই তিন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এবার সরেজমিনে তদন্ত করে রেশনবন্টন ব্যবস্থায় দুর্নীতি করে হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই তিন জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিয়েছেন মৌমিতা দেবী। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বাঁকুড়া জেলা রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা বাঁকুড়া-২ নম্বর ব্লকের রেশন ডিলার বাদল চৌধুরি। সাসপেন্ড হওয়া বাকি দুই রেশন ডিলার হলেন এই অ্যাসোসিয়েশনের ব্লক সম্পাদক তথা বড়জোড়ার রেশন ডিলার ফাজলুল মল্লিক এবং আরেকজন এই অ্যাসোসিয়েশনেরই খাতড়া মহকুমার সম্পাদক তথা সিমলাপালের রেশন ডিলার বিমল সিংহ বাবু।
[রেশনে কতটা খাদ্যসামগ্রী বিলি উপভোক্তাদের, খোঁজ নেবেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা]
জানা গেল, বিগত কয়েক মাস ধরে এই সমস্ত রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে রেশনবন্টন ব্যবস্থায় একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভি্ত্তিতে স্বয়ং জেলাশাসক জেলা খাদ্যদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক আচমকা অভিযোন চালিয়ে এই তিন রেশন ডিলারকে হাতেনাতে ধরেন বাঁকুড়া জেলার খাদ্য নিয়ামক আবির বালি। তিনি বলেন, রেশনবন্টন ব্যবস্থায় কোনও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। জেলা খাদ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এই তিন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে উপভোক্তাদের রেশনে মাল কম দেওয়া, হিসাব বহির্ভূত রেশনদ্রব্য মজুত রাখা-সহ একাধিক অভিযোগের প্রমান মিলেছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি এজেলায় রেশনে পচা, পোকালাগা লাগা চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, রাজ্য খাদ্যদপ্তর ভিন জেলা থেকে চাল কিনে ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে ডিলারদেরকে এই চাল দিয়েছে।
[কুশমণ্ডি ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও এক, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নির্যাতিতার]
বর্তমানে কয়েক মেট্রিকটন চাল মজুত রয়েছে বাঁকুড়া জেলার চাল ডিস্ট্রিবিউটরদের গোডাউনে। সেই চাল খুব নিম্নমানের বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদেরই একাংশ। তারপরেই নড়েচড়ে বসে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। রেশন ব্যবস্থায় চালবন্টন নিয়ে সমস্যা কাটাতে মঙ্গলবার জেলার ১১৪০ জন রেশন ডিলার এবং ২৫ জন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক বসেছিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার সভাধিপতি অরুপ চক্রবর্তী, জেলা শাসক মৌমিতা বসু গোদারা-সহ অন্যান্যরা। এই বক্তব্যে অরুপ বাবু জেলার রেশন ডিলারদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন,‘ মানুষের হাতে কোনওভাবেই নষ্ট চাল যেন না যায়। তিনি রেশন ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেখান থেকে নষ্ট, পোকালাগা চাল পেয়েছেন সেখানেই ফেরত দিন আপনারা।’’
তবে ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, রাজ্য খাদ্যদপ্তর থেকেই ঠিক করা হয় কোন জেলার চাল কোন জেলায় যাবে। তারাই রেশনের চাল, গম, আটার গুণগত মান যাচাই করেন। এ জেলার চাল ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, এ জেলায় প্রতিমাসে মোট চালের প্রয়োজন ৮,৯৬০ মেট্রিক টন। এই বিপুল পরিমান চাল ডিস্ট্রিবিউটরের ঘরে পৌঁছনোর আগে কেন তার গুণগত মান যাচাই করা হয়নি সেটাই প্রশ্ন। তাদের অভিযোগ, রাজ্য খাদ্যদপ্তরে ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে। চালের এই নিম্নমান হওয়া সত্বেও যাদের মদতে এই চাল পাঠানো হয়েছে এজেলায় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটাই এখন দেখার।
The post বণ্টনে বেনিয়ম, বাঁকুড়ায় সাসপেন্ড রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সহ তিন appeared first on Sangbad Pratidin.
